ঈদ শেষে সোমবার সকাল থেকে পাটুরিয়া ও আরিচা ঘাটে কর্মস্থলে রাজধানী ঢাকামুখী যাত্রীদের ভিড় দেখা গেছে। তবে চলমান লকডাউনে গণপরিবহন বন্ধ থাকায় ঈদের ছুটি শেষে যাত্রীরা চার গুণ ভাড়া বেশি দিয়ে কর্মস্থলে ফিরছেন। 

দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১টি জেলার মানুষ ঢাকায় ফিরে যাচ্ছেন সকাল থেকেই। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যাত্রী চাপ বাড়ছে। 

এ নৌরুটে চলাচল ২২টি লঞ্চ দিয়ে যাত্রী পারাপার করা হতো। কিন্ত লকডাউনের কারণে লঞ্চ চলাচল বন্ধ থাকায় যাত্রীরা ফেরিতে নদী পারাপার করছেন।

কর্মস্থলে ফেরা যাত্রীরা পরিবার-পরিজন নিয়ে পাটুরিয়া ঘাটে এসে বিপাকে পড়েছেন। দূরপাল্লার বাস বন্ধ থাকায় অনেকে ঘাটে অপেক্ষায় থেকে যানবাহন না পেয়ে ৭-৮কিলোমিটার পায়ে হেঁটে উথলী, টেপড়া, বরংগাইলসহ বিভিন্ন স্টেশনে এসে হ্যালোবাইক, অটোরিকশা, ভ্যান, সিএনজি ও প্রাইভেটটার, মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহনে ভেঙে ভেঙে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে ঢাকায় যাচ্ছেন।

ফরিদপুর থেকে গাজীপুরগামী ময়না খাতুন পাটুরিয়া ঘাটে যানবাহনের জন্য অপেক্ষা করছেন। তিনি জানান, তারা সকাল ১১টার দিকে পাটুরিয়া ঘাটে আসেন। কিন্ত সকাল দুপুর ১২টা পর্যন্ত ঘাটে অপেক্ষায় থেকে কোনো যানবাহন না পেয়ে পায়ে হেঁটে যানবাহন পাওয়ার উথলী বাস স্টেশনে যাচ্ছেন। 

হোসেন আলী নামে এক যাত্রী ফরিদপুর থেকে ঢাকার গাবতলী যাচ্ছেন। পাটুরিয়া ঘাট থেকে ভাড়ার মোটরসাইকেলে করে যাচ্ছেন তিনি। হোসেন জানান, আগে মোটরসাইকেলে জনপ্রতি গাবতলী পর্যন্ত ভাড়া ছিল ২০০-২৫০ টাকা। এখন সেখানে নেওয়া হচ্ছে ৮০০-১০০০ টাকা। 

আরিচা অফিসের বিঅইডব্লিউটিসির ডিজিএম জিল্লুর রহমান জানান, সোমবার সকাল থেকেই ঈদ শেষে কর্মস্থলে ঢাকায় ফিরে যাচ্ছেন যাত্রীরা। এ নৌ-রুটে ৮টি ফেরি দিয়ে যাত্রী ও যানবাহ পারাপার করা হচ্ছে। কর্মস্থল ঢাকায় ফেরা যাত্রীরা স্বাস্থ্যবিধির কোনো তোয়াক্কা না করেই ঢাকায় যাচ্ছেন।