কুমিল্লায় বাড়ির একটি কক্ষ থেকে এক ব্যবসায়ী ও তার কর্মচারীর মৃতদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার দুপুরে লালমাই থানা পুলিশের সদস্যরা বেলঘর উত্তর ইউনিয়নের ইছাপুরা গ্রামের মজুমদার বাড়ির একটি কক্ষ থেকে ওই মৃতদেহ দুটি উদ্ধার করে।

ব্যবসায়ী শরীফুল ইসলামের (৩২)  মৃতদেহ ঝুলছিল রশিতে এবং কর্মচারী ফয়েজ আহমেদের  (২০) রক্তাক্ত মৃতদেহ পড়ে ছিল খাটের ওপর। নিহত শরীফুল মজুমদার বাড়ির হাসানুজ্জামানের ছেলে এবং তার কর্মচারী ফয়েজ আবুল হাসেমের ছেলে।

খবর পেয়ে জেলা পুলিশ, পিবিআই ও সিআইডির ক্রাইম সিন ঘটনাস্থলে গিয়ে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছে। এক সঙ্গে দুটি মৃতদেহ উদ্ধারের ঘটনায় ওই এলাকায় বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

একজনকে হত্যার পর অন্যজনের আত্মহত্যা নাকি দুই জনকেই দুর্বৃত্তরা খুন করেছে, এমনই গোলক ধাঁধায় পড়েছেন পুলিশ ও ঘটনাস্থলে যাওয়া বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা। 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, শরীফুল ইসলাম কয়েক বছর ধরে নিজ বাড়ির সামনে মুদি দোকানের ব্যবসার পাশাপাশি একটি গরুর ফার্ম পরিচালনা করে আসছিলেন। ফার্ম ও দোকানে কর্মচারী হিসেবে কাজ করতেন একই গ্রামের ফয়েজ আহমেদ। সম্প্রতি ঈদুল আজহার সময় শরীফ প্রায় দশ লক্ষাধিক টাকার গরু বিক্রি করেন।

সোমবার রাতে শরীফ দোকান বন্ধ করার পর কর্মচারী ফয়েজকে নিয়ে তার বাড়িতে নিজের কক্ষে ঘুমাতে যান। এ সময় শরীফের বাবা-মা বোনের বাড়িতে ছিলেন। মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে শরীফের বাবা-মা বাড়িতে এসে ভেতর থেকে ঘরের দরজা বন্ধ দেখেন, পরে দরজা ভেঙ্গে  ভেতরে গিয়ে দেখেন শরীফের মৃতদেহ ঘরের সিলিংয়ের সঙ্গে ঝুলছে এবং কর্মচারী ফয়েজের মৃতদেহ খাটের ওপর পড়ে রয়েছে।

এ বিষয়ে লালমাই থানার ওসি মোহাম্মদ আইয়ুব বলেন, ঘটনাস্থল থেকে  দুইজনের মৃতদেহ উদ্ধারের পর সুরতহাল করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহত ফয়েজের শরীরে ধারালো অস্ত্রের আঘাত ছিল। তবে কি কারণে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

কুমিল্লা পুলিশ সুপার ফারুক আহমেদ সমকালকে বলেন, ‘দুটি মরদেহ উদ্ধারের বিষয়ে এখনই হত্যাকাণ্ডের কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত কোন মন্তব্য করা যাচ্ছে না। কারণ প্রাথমিক তদন্তে আমরা (পুলিশ) নিশ্চিত হয়েছি ঘরের দরজা ভেতর থেকে লাগানো ছিল। ওই কক্ষে ওরা দুজনই ছিলেন। তবে সম্ভাব্য সকল কারণ নিয়েই তদন্ত শুরু হয়েছে, আশা করি শিগগিরই ঘটনার আদ্যোপান্ত জানা যাবে।’