ত্রাণের স্লিপ চাওয়ায় শতবর্ষী এক বৃদ্ধাকে গলাধাক্কা দিয়ে আহত করার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার পলাশী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শওকত আলী ও তার স্ত্রী আনোয়ারা বেগমকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার সকালে উপজেলার নামুড়ি বাজার এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। 

আহত আলেমা বেওয়া (৯৫) পলাশী ইউনিয়নের নামুড়ি মদনপুর গ্রামের মৃত ছপির উদ্দিনের স্ত্রী।গত ১৯ জুলাই তার ছেলে রিকশাচালক নুরুজ্জামান বাদী হয়ে ইউপি চেয়ারম্যান শওকত আলী, তার স্ত্রী আনোয়ারা বেগম (৪৫) ও মেয়ে সুহিন আক্তারের (১৯) বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। 

মামলা সূত্রে জানা যায়, রিকশাচালক ছেলে নুরুজ্জামানের সংসারে থাকেন বৃদ্ধা আলেমা বেওয়া। চলমান লকডাউনে নুরুজ্জামান রিকশা চালাতে না পারায় চরম আর্থিক সংকটে পড়ে ওই পরিবার। তাই ত্রাণের স্লিপ পাওয়ার আশায় চেয়ারম্যানের কাছে জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি জমা দেন আলেমা বেওয়া। এরপর গত ১৯ জুলাই সকালে তাকে ত্রাণ নিতে ইউপি কার্যালয়ে ডাকেন চেয়ারম্যান শওকত আলী। ত্রাণের স্লিপ বাড়িতে রয়েছে জানিয়ে চেয়ারম্যান ওই বৃদ্ধাকে তার বাড়িতে পাঠান। বৃদ্ধা ত্রাণের স্লিপ নিতে চেয়ারম্যানের বাড়িতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেন। এক পর্যায়ে ত্রাণ বিতরণ শেষে দুপুরে চেয়ারম্যান বাড়িতে ফিরলে অপেক্ষমান বৃদ্ধা তার কাছে ত্রাণের স্লিপ দাবি করেন। এ সময় চেয়ারম্যানের নির্দেশে তার স্ত্রী ও মেয়ে ওই বৃদ্ধাকে গলা ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দেন। এতে মুখ ও বুকে  আঘাত পান তিনি। খবর পেয়ে আদিতমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ মনসুর উদ্দিন আলেমা বেওয়াকে আদিতমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান। 

ওই বৃদ্ধার ছেলে নুরুজ্জামান বলেন, 'মা এলাও (এখনও) সুস্থ হয় নাই। এদিকে ফির (আবার) চেয়ারম্যান লোক মারফত আপোষের প্রস্তাব দিছে। হামরা (আমরা) গরিব মানুষ। মামলার ঝামেলা কায় (কে) সহ্য করবে?'  

আদিতমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ মনসুর উদ্দিন সমকালকে জানান, আহত বৃদ্ধার বাড়িতে গিয়ে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। এ সময় তাকে যথাযথ বিচার পাওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

আদিতমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাইফুর রহমান জানান, তদন্ত শেষে দায়ের করা অভিযোগ মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে। গ্রেপ্তার চেয়ারম্যান ও তার স্ত্রীকে আদালতে সোর্পদ করা হয়েছে।