পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. বেনজীর আহমেদ বলেছেন, বাংলাদেশের যে অগ্রগতি, তা সম্ভব হয়েছে দেশের লাখ লাখ শহীদের আত্মত্যাগে। কিন্তু খুব অবাক করার বিষয়, স্বাধীনতার ৫০ বছর পরও রাজাকারের সন্তানরা দম্ভ করে বলে- 'আমি রাজাকারের সন্তান।' এদের দম্ভ চূর্ণ করতে হবে। যারা বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে দেশকে স্বাধীন করেছে, তাদের আত্মত্যাগ স্মরণ করতে হবে।

তিনি বুধবার নোয়াখালী জেলা পুলিশ লাইন্সে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে 'মুক্তিযুদ্ধে পুলিশ নোয়াখালী জেলা' বইয়ের মোড়ক উন্মোচন, মুক্তিযুদ্ধের ভাস্কর্য 'নির্ভীক' ও নোয়াখালী জেলা পুলিশের তিনটি নবনির্মিত ভবন উদ্বোধন করতে গিয়ে এসব কথা বলেন। ভবনগুলো হলো- সুধারাম মডেল থানা কমপ্লেক্স, সোনাপুর পুলিশ ফাঁড়ির চারতলা ভবন ও নোয়াখালী পুলিশ লাইন্সে নারী পুলিশ সদস্যদের জন্য চারতলা নারী ব্যারাক ভবন।

আইজিপি আরও বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধে জেলার পুলিশ সদস্যদের অবদান নিয়ে প্রকাশিত বইটি ইতিহাসের অংশ হয়ে থাকবে। নির্ভীক ভাস্কর্য মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে তরুণ প্রজন্মের কাছে নতুন করে তুলে ধরবে। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে দেশের মানুষ যে দুর্নিবার আন্দোলনের মাধ্যমে দেশ স্বাধীন করেছিল, আমাদের সেই অহংকারের জায়গাগুলো আরও সুসংহত করতে হবে। স্বাধীনতা-সংগ্রামে বাংলাদেশ পুলিশের যে অবদান, তা ডকুমেন্টেড হওয়া দরকার জাতির মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের অংশ হিসেবে এবং পুলিশ বাহিনীর ইতিহাস-ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে।

নোয়াখালীর পুলিশ সুপার আলমগীর হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মুক্তিযোদ্ধা মোস্তফা কামাল, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আনোয়ার হোসেন, ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি ও বাংলাদেশ পুলিশ মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের সভাপতি হাবিবুর রহমান, নোয়াখালীর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ খোরশেদ আলম খান, চট্টগ্রাম রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি ইকবাল হোসেন প্রমুখ বক্তব্য দেন। 

পুলিশ সদর দপ্তর প্রান্তে অতিরিক্ত আইজি ড. মইনুর রহমান চৌধুরী, এস এম রুহুল আমিন, মাজহারুল ইসলাম, এটিইউর অতিরিক্ত আইজি কামরুল আহসান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।