নোয়াখালী বেগমগঞ্জে জান্নাতুল ফেরদৌস রুপা(২৫) নামে চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার মধ্য রাতে উপজেলার নরোত্তম পুর ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের জসিম উদ্দিনের নতুন বাড়ি থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। বৃহস্পতিবার বেলা ১১ টার দিকে ময়না তদন্তের জন্য মরদেহটি নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

এ ঘটনায় মারা যাওয়া গৃহবধূর মা তুহিন আক্তার রুমি বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার সকালে পাঁচজনের বিরুদ্ধে বেগমগঞ্জ মডেল থানায় মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ ওই গৃহবধূর স্বামী সালাহ উদ্দিন সোহেলকে বুধবার রাতে আটক করে। মামলা দায়েরের পর বৃহস্পতিবার গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে সালাহ উদ্দিনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়,  বেগমগঞ্জ উপজেলার নরোত্তম পুর ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা আবুল হাসেমের ছেলে ও চৌমুহনী বাজারের ব্যবসায়ী সালাহ উদ্দিন সোহেলের সাথে ছয় মাস আগে সোনাইমুড়ি উপজেলার বজরা গ্রামের মো. ওয়াহিদুলের মেয়ে জান্নাতুল ফেরদৌস রুপার বিয়ে হয়।

মারা যাওয়া জান্নাতুল ফেরদৌস রুপার মায়ের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকে সোহেল রুপার সাথে ঠিকমত কথা বলত না।তার মেয়েকে নানা ভাবে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করতেন সোহেল ও তার পরিবারের লোকজন। ইতোমধ্যে রুপা তিন মাসের অন্তঃস্বত্তা হয়ে পড়েন।পারিবারিক কলহের জের ধরে বুধবার রাতে সোহেল ও তার পরিবারের  লোকজন রুপাকে বেধড়ক মারধর করলে এক পর্যায়ে রুপা মারা যান। পরে রুপা আত্মহত্যা করেছেন বলে তার বাবার বাড়িতে সংবাদ দেয় সোহেল ও তার পরিবারের সদস্যরা।

রুপার মা আরও জানান, খবর পেয়ে তিনি দ্রুত সোহেলদের বাড়িতে গিয়ে রুপাকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান। পরে জরুরি সেবা ৯৯৯ এ কল করলে ঘটনাস্থল পৌঁছে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে এবং রুপার স্বামী সোহেলকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

মামলর তদন্তকারী কর্মমকর্তা এস আই হাবিবুর রহমান বলেন, ৯৯৯ এ কল পেয়ে তিনি ফোর্স নিয়ে রাত ১২ টার দিকে ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে বৃহস্পতিবার ১১টার দিকে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।

বেগমগঞ্জ থানার ওসি মো.কামরুজ্জামান সিকদার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এ ঘটনায় নিহত গৃহবধূর মা বাদী হয়ে পাঁচজনের বিরুদ্ধে সকালে মামলা দায়ের করেছেন। মামলার প্রধান আসামি সালাহ উদ্দিন সোহেলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।লাশের ময়না তদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।