রাজধানীর কল্যাণপুর বাসস্ট্যান্ড-সংলগ্ন একটি ভবনের ফ্ল্যাটে ভাড়ায় থাকেন রিমা রহমান। লকডাউনের কারণে তার অফিস বেশ কিছুদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। বাসায় থেকে অনলাইনে অফিস করার পাশাপাশি ঘরের কাজকর্মও নিজ হাতে সামলাতে হয় তাকে। বাসার বারান্দায় দাঁড়ালে চোখে পড়ে কল্যাণপুরের ব্যস্ততম সড়ক, খোলা আকাশ। কাজকর্মের ফাঁকে অবসর পেলেই তাই তিনি ওই বারান্দায় দাঁড়িয়ে স্বস্তি খোঁজেন। তবে কয়েকদিন ধরে বারান্দায় দাঁড়ালে স্বস্তির বদলে আতঙ্ক ঘিরে ধরে তাকে। একটু পরপর সাইরেন বাজিয়ে অ্যাম্বুলেন্সের ছুটে চলা চোখে পড়ে। প্রতিদিনই মসজিদ থেকে কানে আসে মৃত্যুর ঘোষণা।
সংশ্নিষ্টরা বলছেন, এসব মৃত্যু ঘটছে মূলত মহামারি করোনায়। অ্যাম্বুলেন্সের অস্বাভাবিক আনাগোনা বৃদ্ধির কারণও করোনায় আক্রান্ত ও মৃত্যুর ঊর্ধ্বগতি। ঢাকা শহরের অনেক বাসিন্দাও আছেন আক্রান্ত ও মৃতের তালিকায়। তবে ঢাকার বাইরে গ্রামাঞ্চলের অনেক করোনা রোগীকে বর্তমানে অ্যাম্বুলেন্সে নিয়ে আসা হচ্ছে এখানে। আবার তাদের অনেকে করোনার কাছে হার মানার পর অ্যাম্বুলেন্সের করুণ সাইরেন বাজিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে স্থায়ী ঠিকানায়। গ্রামের সড়কে এখন অ্যাম্বুলেন্সের চলাচলও বেড়েছে।
রিমা রহমান জানান, তার বাসা থেকে যানবাহনের ছুটে চলার শব্দ সব সময় পাওয়া যেত। কঠোর বিধিনিষেধের কারণে সেটি অনেক কম গেছে। তবে একটু পরপরই কানে আসে অ্যাম্বুলেন্সের সাইরেন বাজিয়ে ছুটে চলার শব্দ। হৃদয়বিদারক ওই সাইরেনে অনেক সময় রাতের গভীর ঘুমও ভেঙে যায়। আবার মসজিদ থেকে প্রতিদিন এলাকার অন্তত তিন-চারজন বাসিন্দার নাম ধরে মৃত্যুর ঘোষণা আসছে। প্রতিবেশীসহ ঢাকা ও গ্রামে তার স্বজনদের কয়েকজন করোনায় আক্রান্ত। কেউ কেউ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। আবার শয্যা ফাঁকা না থাকায় প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও কাউকে কাউকে হাসপাতালে ভর্তি করা সম্ভব হচ্ছে না। চারপাশজুড়ে কেমন যেন এক অস্থিরতা ভর করছে। দেশের বর্তমান করোনা
পরিস্থিতিকে প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে তুলনা করেছেন অনেকে। গত মার্চ থেকে জুন মাস পর্যন্ত করোনার নতুন ধরনের সংক্রমণে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে ভারত। প্রতিদিন লাখ লাখ সংক্রমণের পাশাপাশি হাজার হাজার মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। বিশ্বের অন্যতম অক্সিজেন উৎপাদন ও রপ্তানিকারক দেশটিতে তৈরি হয় ভয়াবহ অক্সিজেন সংকট। অক্সিজেনের অভাবে অনেকে মৃত্যুবরণ করেন। বাংলাদেশেও এখন প্রায় সেই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। রাজধানীর পাশাপাশি গ্রাম থেকে একের পর এক অ্যাম্বুলেন্স এসে থামছে ঢাকার কভিড-১৯ ডেডিকেটেড হাসপাতালের সামনে। হাসপাতাল থেকে হাসপাতালে ঘুরেও করোনা আক্রান্ত রোগীরা শয্যা পাচ্ছেন না।
শয্যা ফাঁকা না থাকায় অনেককে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। আবার অনেককে অপেক্ষমাণ রাখা হচ্ছে। পুরোনো রোগীর ছাড়পত্র অথবা মৃত্যু হলেই কেবল নতুন রোগী ভর্তির সুযোগ মিলছে।
শহর-গ্রাম সর্বত্রই অ্যাম্বুলেন্সের সাইরেন, মসজিদ থেকে আসছে মৃত্যুর ঘোষণা :গত বুধবার রাত সাড়ে ১১টা। রাজধানীর ব্যস্ততম এলাকা মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ড অনেকটাই নীরব। লকডাউনের কারণে দোকানপাট বন্ধ। রাস্তায় রিকশা ছাড়া আর তেমন যানবাহন নেই। কিন্তু কিছুক্ষণ পরপর সাইরেন বাজিয়ে তিন রাস্তার এ মোড় পার হচ্ছে অ্যাম্বুলেন্স। এক ঘণ্টায় এভাবে ১৩টি অ্যাম্বুলেন্স দেখা গেল। কিছু যাচ্ছে ধানমন্ডির দিকে, কিছু আসাদগেটের দিকে, আবার কিছু আসছে কেরানীগঞ্জ থেকে। প্রায় সব অ্যাম্বুলেন্সের মধ্যেই রোগী দেখা গেছে। এ মোড়ের ফুটপাতের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী আলিমুজ্জামান বলেন, শুধু রাতে নয়, দিনেও এ সড়কে অ্যাম্বুলেন্সের আনাগোনা বেড়ে গেছে। বিশেষ করে গত ১৫-২০ দিন ধরে লাশবাহী গাড়িও দেখা যাচ্ছে বেশি।
এ সড়কে প্রায় আধঘণ্টা পরপরই অ্যাম্বুলেন্স ছুটতে দেখছেন দায়িত্বরত ট্রাফিক কনস্টেবল নিজাম উদ্দিন। তিনি বলেন, গত ছয় মাস ধরে মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় দায়িত্ব পালন করছি। আগের চেয়ে বর্তমানে অ্যাম্বুলেন্সের চলাচল বেড়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে গ্রাম থেকেও আসছে বহু অ্যাম্বুলেন্স। অ্যাম্বুলেন্সে থাকা ব্যক্তিদের বেশ দুশ্চিন্তাগ্রস্ত দেখা যায়। আবার অনেক অ্যাম্বুলেন্স থেকে কান্না ভেসে আসে।
মোহাম্মদপুরের ওয়েস্ট ধানমন্ডি হাউজিং এলাকায় তিন শতাধিক পরিবারের বসবাস। দশ গলির বিশাল এই আবাসিক এলাকায় সম্প্রতি গভীর রাতেও অ্যাম্বুলেন্সের সাইরেন শোনা যায় বলে জানালেন একটি ভবনের তত্ত্বাবধায়ক রফিক উল্যাহ। তিনি বলেন, গত ছয় বছর ধরে তিনি এখানে চাকরি করছেন। হাউজিংয়ে আগে একটি অ্যাম্বুলেন্স প্রবেশ করলে সবাই জানতেন কে অসুস্থ হয়েছে। সবার মাঝে উদ্বেগ কাজ করত। এখন দিনে-রাতে ১০-১২টি অ্যাম্বুলেন্সের দেখা মেলে। কেউ এখন আর জানে না- কারা অ্যাম্বুলেন্সে যাচ্ছে কিংবা আসছে। প্রতিদিন অন্তত তিন-চারবার মসজিদ থেকে মৃত্যুর ঘোষণা আসে।
সাম্প্রতিক সময়ে রাজধানীর ধানমন্ডি, আসাদগেট ও শ্যামলীর সড়কে বের হলেই চোখে পড়ছে রোগী অথবা লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্সের চলাচল। এসব এলাকায় সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালগুলোর সামনেও লাশবাহী অথবা সাধারণ অ্যাম্বুলেন্সের উপস্থিতি বেড়েছে। গত বুধবার আসাদগেট থেকে শ্যামলী পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার সড়কে পৌনে এক ঘণ্টায় ১২টিরও বেশি অ্যাম্বুলেন্সকে ছুটে যেতে দেখা গেছে। স্থানীয়রা বলছেন, এর আগে এসব এলাকায় এমনটি দেখা যায়নি।
ধানমন্ডির ইবনে সিনা হাসপাতালের সামনে কথা হয় নোয়াখালী থেকে আসা অ্যাম্বুলেন্স চালক ফুয়াদ হোসেনের সঙ্গে। তিনি বলেন, তিনি একটি অ্যাম্বুলেন্স সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। ওই ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ছয়টি অ্যাম্বুলেন্স রয়েছে। অতীতে এমন সংকট তিনি দেখেননি। এক দিনও বিরতি নেই। এমনকি ঈদের দিনও তিনি রোগী নিয়ে ঢাকায় এসেছেন। ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে করোনা রোগী বেশি বহন করছেন বলে জানান ওই চালক।
করোনা পরিস্থিতিতে রাজধানীর মোহাম্মদপুরে আল-মারকাজুল ইসলামী বাংলাদেশ কার্যালয়ের চিত্র বদলে গেছে। গোসল ও কাফন কার্যক্রম সম্পন্ন করতে মরদেহের দীর্ঘ সারি। প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক আব্দুর রহমান মামুন বলেন, আগের চেয়ে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু বেড়েছে কয়েক গুণ। আগে স্বাভাবিক সময়ে দিনে পাঁচ থেকে সাতটি মরদেহ গোসল করাতে হতো। গত এক সপ্তাহ ধরে সে সংখ্যা দিনে ৩০ থেকে ৩৫ পর্যন্ত হয়েছে। এগুলোর সবই করোনায় মৃত। একের পর এক মরদেহ আসছে। গোসল করিয়ে কূল পাচ্ছেন না। অনেক সময় একসঙ্গে আট থেকে ১০টি মরদেহও চলে আসে। তবে এ পর্যন্ত কতজন করোনায় মারা যাওয়া ব্যক্তিকে গোসল করা হয়েছে, সে হিসাব তাৎক্ষণিক দিতে পারেননি তিনি।
করোনায় মৃত ব্যক্তিদের রায়েরবাজার কবরস্থানে দাফন করা হয়। সেখানকার ৮ নম্বর ব্লকটি নির্ধারণ করা হয়েছে করোনায় মৃতদের জন্য। গত বছর মার্চ মাসে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পর প্রথম দফায় খিলগাঁও তালতলা সরকারি কবরস্থানে মৃতদের দাফন শুরু হয়। কিন্তু স্থান সংকুলান না হওয়ায় ২৭ এপ্রিল থেকে রায়েরবাজার কবরস্থানে দাফন শুরু হয়। কবরস্থানে প্রায় ২৫-৩০ জন গোরখোদক রয়েছেন। তারা আগে থেকে ১০-১২টি কবর খুঁড়ে রাখেন। রায়েরবাজার কবরস্থানের সিনিয়র মোহরার আব্দুল আজিজ বলেন, গত জুন থেকে প্রতিদিন গড়ে ১৫টি লাশ দাফন করা হচ্ছে। ২৬ জুলাই পর্যন্ত করোনায় মৃত দেড় হাজার লাশ দাফন করা হয়েছে।
শয্যার তীব্র সংকট :রাজধানীর কভিড-১৯ ডেডিকেটেড সরকারি ১৬ হাসপাতালের মধ্যে ১১টিতে আইসিইউর একটি শয্যাও ফাঁকা নেই। চারটি হাসপাতালে গতকাল দুপুরের দিকে ১৬টি আইসিইউ ফাঁকা থাকলেও বিকেল ৫টার মধ্যে সেগুলোতেও রোগী ভর্তি করা হয়েছে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের নির্ধারিত সাধারণ শয্যার বাইরে বাড়তি ৬৯ জন রোগী ভর্তি আছে। রাজধানীর নামিদামি বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে সাধারণ ও আইসিইউর কোনো শয্যা ফাঁকা নেই।
ইউনাইটেড হাসপাতালের জনসংযোগ বিভাগের প্রধান ডা. সাগুফা আনোয়ার সমকালকে বলেন, দু-একটি শয্যা ফাঁকা হলেও সেগুলোর জন্য আগে থেকে সিরিয়াল পড়ে থাকে। এ কারণে চাইলেও কাউকে ভর্তি করা সম্ভব হয় না। জানা গেছে, সারাদেশে কভিড-১৯ ডেডিকেটেড হাসপাতালে ১৬ হাজার ৩৬টি সাধারণ শয্যার মধ্যে ফাঁকা আছে পাঁচ হাজার ১৫৭টি। আর এক হাজার ৩৮৮ আইসিইউ শয্যার মধ্যে ফাঁকা আছে মাত্র ১৮৮টি।
রাজধানীর অন্তত তিনটি কভিড-১৯ ডেডিকেটেড হাসপাতালের পরিচালক সমকালকে বলেছেন, ভর্তি হতে হাসপাতালে নিয়ে আসা অনেক রোগীকে ফিরিয়ে দিতে হচ্ছে। কারণ শয্যা ফাঁকা নেই। প্রতিদিন যত রোগীকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়, তার তুলনায় ১০ গুন রোগী ভর্তির জন্য আসেন। একজন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হলে তার সুস্থ হয়ে উঠতে আট থেকে ১০ দিন সময় লাগে। আবার কারও কারও আরও বেশি সময় লাগে। এ হিসাবে প্রত্যেক রোগী ভর্তির পর গড়ে ১০ দিন করে হাসপাতালে অবস্থান করলে ওই সময়ে আরও ১০ জন রোগী ভিড় করেন। তাহলে একটি শয্যার জন্য অন্তত ১০ জনের সিরিয়াল পড়ে যাচ্ছে। সুতরাং রোগী বাড়লে শয্যা সংকট আরও বাড়বে বলে মনে করেন তারা।
চিকিৎসাসুবিধা বাড়ানোর তাগিদ বিশেষজ্ঞদের :করোনার সংক্রমণ বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে চিকিৎসাসুবিধা বাড়ানোর পরামর্শ দিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও ভাইরোলজিস্ট অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম সমকালকে বলেন, সংক্রমণপ্রবণ ভারতীয় ধরনে সে দেশে বিপর্যয় দেখা দিয়েছিল। মে মাসের মাঝামাঝি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিশেষজ্ঞ কমিটি সীমান্ত জেলাগুলোতে লকডাউনের সুপারিশ করেছিল। কিন্তু সরকার তা আমলে নেয়নি। এরপর ধাপে ধাপে বিস্তার ঘটিয়ে সংক্রমণ সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে। এর মধ্যে ঈদের সময় বিধিনিষেধ শিথিল করা হয়। এতে সংক্রমণের আরও বিস্তার ঘটে। এখন প্রতিদিন গড়ে ১৫ হাজারের ওপরে আক্রান্ত এবং দুইশর বেশি রোগী মৃত্যুবরণ করছেন। হাসপাতালে শয্যা মিলছে না। পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে। সুতরাং জরুরি ভিত্তিতে হাসপাতালে চিকিৎসাসুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিতে হবে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ডা. বে-নজির আহমেদ সমকালকে বলেন, সংক্রমণ যে হারে বাড়ছে তাতে হাসপাতালে রোগীর শয্যা পাওয়া দুস্কর হয়ে পড়বে। প্রতিদিন গড়ে ১৫ হাজার মানুষ আক্রান্ত হলে আগামী ১০ দিনে সংখ্যাটি দেড় লাখ হবে। তাদের মধ্যে ১০ শতাংশ মানুষের হাসপাতালে ভর্তির প্রয়োজন পড়লেও শয্যা দেওয়া সম্ভব হবে না। তখন ভারতের মতো অবস্থার সৃষ্টি হবে। রোগী বাড়লে চিকিৎসা না পেয়েই হয়তো মৃত্যুবরণ করতে হবে। কারণ ইতোমধ্যে ৭৫ শতাংশের মতো শয্যা পূরণ হয়ে গেছে। রোগী বাড়তে থাকলে বাকি শয্যাও পূর্ণ হয়ে যাবে। এই মুহূর্তে প্রয়োজন জরুরি ভিত্তিতে স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ করা। সেটি না হলে বিপর্যয় ঘটতে পারে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক সমকালকে বলেন, প্রতিদিনই কভিড-১৯ ডেডিকেটেড হাসপাতালে সাধারণ ও আইসিইউ শয্যা বাড়ানো হচ্ছে। কিন্তু যে হারে রোগী বাড়ছে, সেই হারে শয্যা বাড়ানো সম্ভব নয়। কারণ চাইলেই রাতারাতি শয্যা বাড়ানো যায় না। আবার শয্যার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জনবল না থাকলে রোগী সেবা পাবে না। প্রায় দেড় বছর ধরে রোগীর চিকিৎসা দিতে গিয়ে চিকিৎসক-নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরা অনেকটাই ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন। অনেকে দুই থেকে তিনবার আক্রান্তও হয়েছেন। এ অবস্থায় নতুন করে চিকিৎসক ও নার্স নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে ধাপে ধাপে শয্যার সংখ্যা বাড়ানো হচ্ছে। রোগী বৃদ্ধির চলমান ধারা অব্যাহত থাকলে শয্যা সংকট আরও বাড়বে। সুতরাং সংক্রমণ এড়াতে সবাইকে মাস্ক পরতে হবে। সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করার পাশাপাশি স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। অন্যথায় পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করবে।