বাবার অসুস্থতায় ভ্যানে করে কলা বিক্রি করতে বেড়িয়ে পড়া সেই শিশু আল রাফির পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন বরিশালের জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দীন হায়দার। শুক্রবার সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার জরুরি খাদ্যসামগ্রী দেওয়া হয়েছে রাফির পরিবারের হাতে।

এর আগে রাফির কষ্টের কথা প্রকাশিত হয় সমকালে। বুধবার সন্ধ্যায় সমকালের অনলাইন সংস্করণে ‘আব্বার জ্বর, কলাগুলা বেচতে না পারলে খামু কি’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

ওই প্রতিবেদনটি অস্ট্রেলিয়ার সিডনি প্রবাসী এক বাংলাদেশির নজরে আসে। পরে তিনি যোগাযোগ করেন সমকালের বরিশাল ব্যুরো প্রধানের সঙ্গে। নিজের পরিচয় প্রকাশ করতে অনিচ্ছুক সেই প্রবাসী বৃহস্পতিবার শিশু রাফির পরিবারের জন্য নগদ অর্থ পাঠান।

এছাড়া শুক্রবার সকাল ১১টায় চাল, ডাল, আলু, পেঁয়াজ, তেল, চিনি, লবণ, ফলমূলসহ অন্যান্য খাদ্যসামগ্রী নগরীর আলেকান্দা এলাকার বাসায় গিয়ে রাফির পরিবারের হাতে তুলে দেন জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের প্রবেশন কর্মকর্তা সাজ্জাদ পারভেজ।

এ ব্যাপারে সাজ্জাদ পারভেজ সমকালকে বলেন, রাফির পরিবারের দুর্দশার চিত্র সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর বিষয়টি জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দীন হায়দারের নজরে পড়ে। তিনি পরিবারটিকে সহায়তার নির্দেশনা দেন। শুক্রবার জরুরি সহায়তার অংশ হিসেবে তাকে খাদ্যসামগ্রী দেওয়া হয়েছে। এছাড়া রাফির পড়াশোনার জন্য যাবতীয় সহযোগিতা করা হবে।

চার সদস্যের পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী রাফির বাবা মোজাম্মেল জলিল ভ্যানে করে মৌসুমি ফল বিক্রি করেন। কিন্তু জ্বরের কারণে কয়েকদিন ধরে তিনি বাড়ির বাইরে বের হতে পারছিলেন না। এদিকে ঘরে খাবারও শেষ। এতে সংকটে পড়ে মোজাম্মেল জলিলের পুরো পরিবার।

একপর্যায়ে বাবার ভ্যান নিয়ে রাস্তায় নামে ছোট্ট শিশু রাফি। কিন্তু লকডাউন আর দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে বাইরে লোকজন কম থাকায় বিপাকে পড়তে হয় তাকে। কলা বিক্রি হয় খুবই কম। এদিকে বিষয়টি নজড়ে আসে সংবাদমাধ্যমের।