কক্সবাজার জেলায় বন্যায় ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তবে শুক্রবার পরিস্থিতির সামান্য উন্নতি হয়েছে। সারাদিন বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় বিভিন্ন এলাকায় লোকালয় থেকে পানি নেমে গেছে। অধিকাংশ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু করা হয়েছে। সড়ক যোগাযোগ পুনঃস্থাপন করা হয়েছে।

স্থানীয় প্রশাসন সূত্র জানিয়েছে, টানা ভারি বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে ডুবে গেছে কক্সবাজার জেলার ১০ হাজার হেক্টর কৃষি জমি ও মাছের ঘের। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রায় ৩০ কিলোমিটার সড়ক। ভেঙেছে বেড়িবাঁধ, ডুবেছে বাড়িঘর।

প্রবল বৃষ্টিতে পাহাড় ধসে ও বানের পানিতে এ পর্যন্ত জেলায় ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে। ২৭ জুলাই পাহাড় ধসে ও বানের পানিতে ছয় রোহিঙ্গার মৃত্যু হয়। একই দিন মহেশখালীতে বাড়ির দেয়ালচাপায় এক নারী ও টেকনাফে পাহাড় ধসে এক বৃদ্ধ মারা যান। ২৮ জুলাই পাহাড় ধসে টেকনাফের হ্নীলায় একই পরিবারের পাঁচজন এবং মহেশখালীতে একজনের মৃত্যু হয়। একই দিন বানের পানিতে ডুবে উখিয়ায় তিনজন এবং ঈদগাওতে তিনজনের মৃত্যু হয়। ২৯ জুলাই চকরিয়ায় এক শিশু মারা যায় বন্যায়।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা এসএম খালেকুজ্জামান বলেন, জেলার আটটি উপজেলায় চার হাজার হেক্টর মৎস্য ও চিংড়ি ঘের বানের পানিতে তলিয়ে গেছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. মো. এখলাছ উদ্দিন বলেন, ফসলি জমিতে এখনও পানি রয়েছে। তাই ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ণয় সম্ভব হয়নি। তবে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, বন্যায় জেলার ৪৯১ হেক্টর আউশ এবং ৭৬২ হেক্টর আমন বীজতলা পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে।

স্থানীয় সরকার অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী আনিসুর রহমান বলেন, টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে আট উপজেলার ৪০টি সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পানি নেমে গেলেই ক্ষতির প্রকৃত তথ্য জানা যাবে।

জেলা প্রশাসক মামুনুর রশীদ জানান, পানিবন্দি মানুষের কষ্ট লাঘবে সরকারি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। জেলার বন্যার্তদের জন্য ৩০০ টন চাল, দুই হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার এবং ১৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে ত্রাণ বিতরণ করছেন। কিছু বেসরকারি সংস্থাও সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। জেলা প্রশাসক বলেন, অতিবর্ষণ না হলে আশা করছি নিমজ্জিত এলাকা থেকে শিগগির পানি নেমে যাবে। 

জেলা প্রশাসক আরো বলেন, লোকলজ্জার ভয়ে যারা লাইনে দাঁড়িয়ে ত্রাণ নিতে চান না, তারা জাতীয় হেল্পলাইন ৩৩৩-এ ফোন করলে গোপনীয়তা বজায় রেখে খাদ্য সহায়তা দেওয়া হবে।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আমিন আল পারভেজ বলেন, পানিবন্দি মানুষকে বিভিন্ন আশ্রয় কেন্দ্রে আনা হয়েছে। দেওয়া হচ্ছে খাবার। পাহাড় ধসে ও বানের পানিতে নিহতদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দিয়েছে প্রশাসন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত দুর্যোগকবলিত মানুষের জন্য ত্রাণ সহায়তা অব্যাহত থাকবে।