ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে বিকাশ ও কম্পিউটার পণ্য ব্যবসায়ী ইসহাক আলীকে (২৮) হত্যার ১০ দিন পর পুলিশ ও র‌্যাব তিন জনকে গ্রেপ্তার করেছে।

এরা হলেন, উপজেলার জাবরহাট গ্রামের একরামুল হকের ছেলে নয়ন (২০) মাধবপুর গ্রামের আজাহারুল ইসলামের ছেলে আরিফুল ইসলাম (৩২) ও চন্দরিয়া গ্রামের  মেজবাউল ইসলাম (১৮)। 

পীরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার রায় সমকালকে বলেন, ‘ঈদের আগে মোটা অঙ্কের টাকা জোগাড় করতেই হত্যাকারীরা ইসহাককে হত্যা করেছে বলে আসামিরা স্বীকারোক্তি দিয়েছে। হত্যা মিশনে ৫ জন অংশ নেয়। ঘটনার দিন সন্ধ্যায় মোটা অঙ্কের টাকা ছিনতাইয়ের জন্য একটি স্কুল মাঠে পরিকল্পনা করে তারা। পরিকল্পনামাফিক ইসহাকের গতিবিধি নজরে রাখেন তারা। পরে তার ব্যাগ ছিনতাইয়ের সময় ধস্তাধস্তি করলে আসামিরা গলাকেটে হত্যা করে ইসহাককে।’

পরে আসামিরা এক লাখ ৩৭ হাজার টাকাভর্তি ব্যাগটি ছিনিয়ে যায়। পরে তারা টাকাগুলো নিজেদের মধ্যে ভাগ করে খালি ব্যাগটি বৈরচুনা পারঘাটা ব্রিজ থেকে টাঙ্গন নদীতে ফেলে। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরিটি আরিফুলের বাড়ি থেকে বৃহস্পতিবার উদ্ধার করে পুলিশ।

ওসি প্রদীপ জানান, ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া একটি জুতার সূত্র ধরে তদন্ত শুরুর পর সিসিটিভি ফুটেজ ও তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে সন্দেহভাজন নয়নকে  রাজধানীর ধানমন্ডি থেকে আটক করে পুলিশ। আটক হওয়া ওই যুবককের দেয়া তথ্যমতে জাবরহাট ইউনিয়নের মেজবাউল ও আরিফুল ইসলাম নামে আরও দুই জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত তিনজনকে ঠাকুরগাঁও আদালতে পাঠানো হয়েছে।

২০ জুলাই ভোরে পীরগঞ্জ উপজেলার জাবরহাট-কর্নাই মাঝাপাড়া পাকা সড়কের দক্ষিণ দিকে পুকুর পাড়ে খুন হন ইসহাক আলী। তার বড় ভাই ইউসুফ আলী বাদী হয়ে ওইদিনই পীরগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছিলেন।