ঢাকা মঙ্গলবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

‘আমার মেয়ে ফাঁস নেয়নি’

‘আমার মেয়ে ফাঁস নেয়নি’

স্বজনের কোলে দুই মাসের তালহা (বাঁয়ে) ও তিন বছরের মুন্না। শনিবার কুমারখালীর মহেন্দ্রপুর খানাপাড়ায় সমকাল

কুমারখালী (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৩ ডিসেম্বর ২০২৩ | ০০:০১

‘আমার মেয়ে ফাঁস নেয়নি। মাদকাসক্ত জামাই (জামাতা) সজল ও তার পরিবারের লোকজন টাকার জন্য কিল-ঘুসি ও লাথি মেরে হত্যা করেছে। ঘটনা ধামাচাপা দিতে ঘরের সিলিং ফ্যানে লাশ ঝুলিয়ে আত্মহত্যার প্রচার করেছে।’ বিলাপ করতে করতে কথাগুলো বলছিলেন শহিদ সরদার। বুধবার তাঁর মেয়ে আয়েশা খাতুনের (২৩) লাশ কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার বানিয়াকান্দি থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। ওই গ্রামের সজল হোসেনের সঙ্গে বছর চারেক আগে বিয়ে হয় তাঁর। এ দম্পতির দুই ছেলে। বড়টির বয়স তিন বছর, নাম মুন্না। ছোট ছেলে তালহার বয়স দুই মাস। 

উপজেলার জগন্নাথপুর ইউনিয়নের মহেন্দ্রপুর খানাপাড়ায় আয়েশার বাবার বাড়ির স্বজন ও এলাকাবাসী গতকাল শনিবার মানববন্ধন করে। সেখানে মেয়ে হত্যার বিচার দাবি করেন শহিদ সরদার। তাঁর স্ত্রী স্বপ্না খাতুন বলেন, ‘সজল (জামাতা) বারবার টাকা চাইত। ধারদেনা করে কয়েক লাখ টাকা, সোনাদানা ও বিভিন্ন মালপত্রও দিছি। তবুও আমার মেয়েকে হত্যা করেছে ওরা।’ এখন ছোট শিশু দুটির ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তিনি।

স্বজনরা জানায়, বিয়ের পর থেকে সজল ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা যৌতুক দাবিতে নির্যাতন করে আসছিলেন আয়েশাকে। এ জন্য ঘরের আসবাব, স্বর্ণালংকারসহ কয়েক লাখ টাকার মালপত্রও দেওয়া হয়েছে। তারপরও নির্যাতন বন্ধ হয়নি। এ কারণে আয়েশা কয়েকটি এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে স্বামী সজলকে দেন। তবে মাদকাসক্ত সজল নিয়মিত কিস্তি শোধ করতেন না।

তবে এসব অস্বীকার করে স্বামী সজল উল্টো অভিযোগ করেন, ‘আয়েশাকে দিয়ে আমার শ্বশুর কয়েকটা এনজিও থেকে দুই-তিন লাখ টাকা লোন তুলেছেন। কিন্তু শ্বশুর সময়মতো কিস্তি দেন না। এ জন্য এনজিওর লোকজন চাপ দিচ্ছিল। তা সইতে না পেরে আয়েশা আত্মহত্যা করেছে।’

আরও পড়ুন

×