ঢাকা বুধবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

জীবনযুদ্ধ চালিয়ে যেতে চান মেধাবী সাইমা

জীবনযুদ্ধ চালিয়ে যেতে চান মেধাবী সাইমা

চাচি মিরজান বেগমের সঙ্গে অদম্য মেধাবী সাইমা জামান। সম্প্রতি শিবচরের মল্লিককান্দি গ্রামের বাড়িতে সমকাল

শিবচর (মাদারীপুর) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৩ ডিসেম্বর ২০২৩ | ০০:০৬

এইচএসসিতে জিপিএ ৫ পেয়েও শিক্ষাজীবন নিয়ে দুশ্চিন্তা কাটছে না অদম্য মেধাবী সাইমা জামানের। চলতি বছর মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার ইলিয়াস আহমেদ চৌধুরী কলেজ থেকে মানবিক বিভাগে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখে উত্তীর্ণ হন তিনি। তবে দুশ্চিন্তার ভাঁজ পড়েছে সাইমা ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের কপালে। ভালো বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির আশা করলেও ভর্তি কোচিংয়ের খরচ নিয়ে ভাবনায় হতাশা জেঁকে বসেছে।

এমনিতেই সাইমার জীবনের গল্প আর দশজনের মতো নয়। ভাঙনের সঙ্গে পদ্মাতীরের মানুষের লড়াই চিরন্তন। মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার বন্দরখোলা ইউনিয়নের মল্লিককান্দির এমনই এক পরিবারে জন্ম তাঁর। তবে সাইমা এর চেয়েও নিষ্ঠুর বাস্তবতার মুখোমুখি হন তিন বছর বয়সে। একই সঙ্গে জন্ম নেওয়া ভাই সিয়াম ও তিনি পিতৃহারা হন ২০০৯ সালে। ওই বছর সৌদি আরবে মর্মান্তিক এক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান বাবা পানু মল্লিক। তাঁর মৃত্যুতে মধ্যবিত্ত পরিবারটি যখন দিশেহারা, মাস দুয়েক পর মারা যান পানুর ছোট ভাই মিজু মল্লিকও।

ভাইবোনকে পাঁচ বছর বয়সে ছেড়ে যেতে বাধ্য হন মা। দ্বিতীয় সংসার করছেন তিনি। এরপর পরম মমতায় দু’জনকে আগলে রাখেন একমাত্র চাচি মিরজান বেগম। নিজের দুই সন্তানের সঙ্গে কখনও ব্যবধান করেননি। সাইমার দাদা জহের মল্লিক যতদিন বেঁচে ছিলেন, সাহস হারাননি মিরজান। তবে বিপর্যয় দেখা দেয় ৯ বছর আগে। জহের মল্লিক মারা গেলে বিপাকে পড়ে পরিবারটি। মৃত্যুর বছরখানেক আগে অবশ্য ইটের গাঁথুনি দিয়ে ঘর তৈরি করেছিলেন দাদা। আজ পর্যন্ত এর পলেস্তারা করতে পারেনি পরিবারটি।

২০২১ সালে রাজারচর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে জিপিএ ৪ দশমিক ৮৯ পেয়ে এসএসসি উত্তীর্ণ হন সাইমা। পরে ভর্তি হন উপজেলার দত্তপাড়া এলাকার ইলিয়াস আহমেদ চৌধুরী কলেজে। যাতায়াত খরচের জন্য গ্রামের শিশুদের পড়াতে শুরু করেন। এ উপার্জন দিয়েই নিজের পড়াশোনার খরচ জুগিয়েছেন। কলেজ কর্তৃপক্ষও সহায়তা করেছে।

চাচাতো ভাই জাবেল মল্লিক ও চাচি মিরজান বেগমের সহায়তা ছাড়া কলেজে ভর্তিও এক সময় কল্পনার বাইরে ছিল সাইমার জন্য। সেই কৃতজ্ঞতা ঝরে তাঁর কণ্ঠে। সাইমা বলছিলেন, ‘চাচিই আমার মা-বাবা। তিনি ও বড় ভাইয়ার জন্যই এ পর্যন্ত পড়তে পেরেছি। ভালো জায়গায় পড়তে ইচ্ছা থাকলেও তাদের এত সামর্থ্য নেই।’ এ কারণে হতাশ হলেও ভেঙে পড়ছেন না তিনি। 

চাচি মিরজান বেগম বলেন, ও (সাইমা) ভালো কোথাও পড়তে চায়। সবাই সহযোগিতা করলে সাইমার পড়ালেখা এগিয়ে নেওয়া সম্ভব বলেও মনে করেন তিনি।
ইলিয়াস আহমেদ চৌধুরী কলেজের অধ্যক্ষ মো. হাফিজুল্লাহর চোখে সাইমা একজন অদম্য মেধাবী। তিনি বলেন, ‘আমাদের কলেজের প্রতিষ্ঠাতা জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরী। তাঁর পরিবার বৃত্তির মাধ্যমে এমন অনেক দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীকে সহায়তা করে। এভাবে অনেকেই নানা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়ছে। আশা করি সাইমার জন্যও তারা ব্যবস্থা নেবেন। অন্য কেউ চাইলে সাইমার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন।’
 

আরও পড়ুন

×