ঢাকা মঙ্গলবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

আলোচনায় সিদ্দিকী পরিবারের তিন ভাই

টাঙ্গাইলের রাজনীতি

আলোচনায় সিদ্দিকী পরিবারের তিন ভাই

লতিফ সিদ্দিকী, কাদের সিদ্দিকী ও মুরাদ সিদ্দিকী

 আবদুর রহিম, টাঙ্গাইল

প্রকাশ: ০৩ ডিসেম্বর ২০২৩ | ০০:৪১ | আপডেট: ০৩ ডিসেম্বর ২০২৩ | ০৮:৫৮

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে রাজনীতিতে আবারও আলোচনায় টাঙ্গাইলের প্রভাবশালী সিদ্দিকী পরিবার। এ পরিবারের দুই হেভিওয়েট প্রার্থী আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কৃত সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী এবং কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি বঙ্গবীর আবদুল কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তম। তাদের মধ্যে টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন লতিফ সিদ্দিকী। টাঙ্গাইল-৮ (সখিপুর-বাসাইল) থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী। এ ছাড়া, তাদের ছোট ভাই মুরাদ সিদ্দিকী টাঙ্গাইল-৫ (সদর) এবং টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আসনের যে কোনো একটি আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে লড়বেন। 

তবে তাদের নিয়ে এখনও টানাপোড়েন রয়েছে জেলা আওয়ামী লীগে। কেউ তাদের সহজে গ্রহণ করছেন না। বিপরীতে তাদের নিয়ে ইতিবাচক মনোভাব দেখাচ্ছেন দলীয় হাইকমান্ড।

একসময় টাঙ্গাইলে সিদ্দিকী পরিবারের ব্যাপক আধিপত্য ছিল। জেলার রাজনীতি ছিল তাদের নিয়ন্ত্রণে। তবে নানা কারণে সিদ্দিকী পরিবার রাজনৈতিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে বিভিন্ন মন্তব্য করে ১৯৯৯ সালে দল ছেড়ে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ গঠন করেন কাদের সিদ্দিকী। 

২০১৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে হজ ও তাবলিগ নিয়ে বেফাঁস মন্তব্য করে আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কৃত হন লতিফ সিদ্দিকী। হারান মন্ত্রিত্বও। দেশে ফেরার পর তাঁকে কারাগারে যেতে হয়। পরে তিনি সংসদ থেকেও পদত্যাগ করেন। সর্বশেষ ২০১৮ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইল-৪ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছিলেন। নির্বাচনী প্রচারণার সময় তাঁর গাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটে। এর প্রতিবাদে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে তিনি অবস্থান ধর্মঘট করেন। পরে নির্বাচন থেকে সরে যান। এ ঘটনার পর থেকে নিষ্ক্রিয় ছিলেন। 

তাদের ছোট ভাই মুরাদ সিদ্দিকীও কয়েকবার সংসদ সদস্য পদে নির্বাচন করে পরাজিত হন। সর্বশেষ ২০১৪ সালে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থীর সঙ্গে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করে সামান্য ভোটে পরাজিত হন। এর পর থেকেই তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে যোগদানের চেষ্টা করছেন। সখ্য বাড়িয়েছেন নেতাকর্মীর সঙ্গেও। কিন্তু গত আগস্টে জেলা আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে তিনি স্থান পাননি। এতে তাঁর কর্মী-সমর্থকরা হতাশ হয়ে পড়েন।

গত বছরের ২৩ ডিসেম্বর সপরিবারে গণভবনে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন কাদের সিদ্দিকী। তার পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন রয়েছে তিনি আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন জোটে যাচ্ছেন। পাল্টে যায় রাজনৈতিক দৃশ্যপটও। ভাই লতিফ সিদ্দিকীকে সঙ্গে নিয়ে বিভিন্ন সভা-সমাবেশে প্রধানমন্ত্রীর ও আওয়ামী লীগের পক্ষে বক্তব্য দেন। ফলে তিনি আবারও দলীয় মনোনয়ন পাবেন বলে মনে করেন তৃণমূল নেতাকর্মীরা। আওয়ামী লীগের অনেক নেতাকর্মী তাঁকে দলে নেওয়ার দাবি তোলেন। প্রধানমন্ত্রী যে তাদের দুই ভাইয়ের প্রতি কিছুটা নমনীয় হয়েছেন, তা বিভিন্ন বক্তব্য-বিবৃতিতে বুঝিয়েছেন। কালিহাতী ও সখিপুরে অপেক্ষাকৃত দুর্বল প্রার্থী মনোনয়ন দিয়েছে আওয়ামী লীগ। সেখানে লতিফ সিদ্দিকী ও কাদের সিদ্দিকী সহজেই জয় পাবেন এমনটাই প্রত্যাশা করছেন নেতাকর্মীরা। এবার দুই ভাই সংসদে যাবেন এমনটাই আকার-ইঙ্গিতে বুঝিয়েছেন আওয়ামী লীগ নেতারাও।

এ বিষয়ে কাদের সিদ্দিকী সমকালকে বলেন, বড় ভাই লতিফ সিদ্দিকীকে সঙ্গে নিয়ে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছি। কালিহাতীতে আমার কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ তাঁকে সমর্থন দেবে। প্রধানমন্ত্রী কথা দিয়েছেন সুষ্ঠু ভোট হবে। এবার ভোট ডাকাতি হবে না। তাই আশা করছি, লতিফ ভাই অবশ্যই জয়ী হবেন।

সখিপুর আসন নিয়ে তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছে অনুপম শাহজাহান জয়। আমি তার বাবার সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছি। সে তো বাচ্চা ছেলে, তার ব্যাপারে আমার কিছু বলার নেই।   
প্রায় পাঁচ বছর পর কালিহাতীতে গণসংযোগ করছেন লতিফ সিদ্দিকী। তিনি বলেন, আমি বঙ্গবন্ধুর আদর্শের একজন সৈনিক। আমি আওয়ামী লীগার। বিএনপি ঘোষণা দিয়েছে, তারা শেখ হাসিনার সরকারকে উৎখাত করবে। আমি মনে করি, এর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা আমার দায়িত্ব। সেই দায়িত্ববোধ থেকেই আমি নির্বাচনে এসেছি।

এদিকে নির্বাচনকে ঘিরে সভা, সমাবেশ, উঠান বৈঠক ও জনসভা করছেন মুরাদ সিদ্দিকী। এবার আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম তুলেও মনোনয়ন বঞ্চিত হন। মুরাদ সিদ্দিকী বলেন, আমি দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের সঙ্গে আছি। আমি আওয়ামী লীগের বাইরের কেউ নই। হাইকমান্ডের ইচ্ছায় দুটি আসনে মনোনয়ন জমা দিয়েছি। যে কোনো একটি আসনে নির্বাচন করব।

তিন ভাইয়ের প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি খন্দকার আশরাফুজ্জান স্মৃতি বলেন, তারা সমষ্টিগতভাবে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীদের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না। আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে তাদের মোকাবিলা করব। এ ছাড়া অতীতে আমরা দেখেছি আওয়ামী লীগের মতো বিশাল একটি দলের বিরুদ্ধে গিয়ে কেউ কিছুই করতে পারেনি। তারা ভোটের মাঠে কোনো প্রভাব ফেলতে পারবে না।

আরও পড়ুন

×