গোয়ালন্দে সংখ্যালঘু একটি হিন্দু পরিবারের উপর দু'দফায় হামলা, ভাংচুর, মারপিট ও লুটপাটের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভুক্তভোগীরা প্রাণভয়ে বাড়িছাড়া হয়েছেন। 

এ ঘটনায় রোববার গোয়ালন্দ ঘাট থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডের বেপারী পাড়া থেকে এই অভিযোগ এসেছে বলে সমকালকে জানান গোয়ালন্দ থানা পুলিশ। 

ভুক্তভোগী পরিবারের একজন সদস্য রঞ্জিতবেপারী সমকালকে জানান, বেপারী পাড়ার দুলাল ব্যাপারী প্রতিবেশী মৃত নিমাই চন্দ্র বাড়ৈর বেশকিছু জমি দীর্ঘদিন ধরে ‘জোরপূর্বক’ দখল করে রেখেছে। এ নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিবাদ চলছে। গত শনিবার রাত ৯টার দিকে নিমাই চন্দ্রের নাতি নিমাইকে ‘চুরির অপবাদ’ দিয়ে দুলাল বেপারীর ছেলে ও নাতিরা মারধর করে। 

এর প্রতিবাদ করলে দুলাল বেপারীর ৬ ছেলে ও নাতিরা লাঠিসোটা নিয়ে রঞ্জিতদের বাড়িতে এসে হামলা চালায়। এ সময় পরিবারের সদস্যদের মারধর, বাড়ি ভাংচুর করে নগদ ৩৫ হাজার টাকা ও একটি স্বর্ণের চেইন লুটপাট করে তারা। 

পরে রোববার সকালেও রঞ্জিতের পরিবারের সদস্যদের উপর ‘হামলা’ চালানো হয়। এ সময় পরিবারের সদস্যরা প্রাণভয়ে বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। 

রঞ্জিতের ছোট ভাই ছিদাম কুমার মুঠোফোনে জানান, ‘তারা খুবই অসহায় সংখ্যালঘু একটি পরিবার । জমি দখল নিয়ে বহু বিচার শালিস হয়েছে। কিন্তু হেলাল শেখরা কিছুই মানে না। জমিজমার এ দ্বন্দ্বের জের ধরে তারা আমার ভাইপোকে মিথ্যা চুরির অপবাদ দেয়। প্রতিবাদ করায় বাড়িতে এসে দুই দফায় আমাদের মারধর, ভাংচুর ও লুটপাট করে। প্রানভয়ে আমরা বাড়িতে যেতে সাহস পাচ্ছি না।’

সিদাম কুমার জানান, বাড়িতে লুটপাট ও মারধরের ঘটনায় তিনি থানায় দুলাল ব্যাপারী পরিবারের ছয় সদস্যের বিরুদ্ধে গোয়ালন্  থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

অভিযোগ অস্বীকার করে দুলাল বেপারি বলেন, ‘রঞ্জিতের ছেলে নিমাই আমার ছেলে তালেবের ঘরে ঢুকে ওর বৌয়ের হাত-মুখ গামছা দিয়ে বেঁধে ফেলে। এরপর সে ঘরে রাখা কিছু নগদ টাকা হাতিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে। আমরা টের পেয়ে তাকে ধরে ফেলি। এ কথা বলতে গিয়ে তারাই বরং আমাদের উপর চড়াও হয়।অ ামরাও থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছি।’

গোয়ালন্দ ঘাট থানার অপারেশন অফিসার এসআই জাকির হোসেন বলেন, ‘ছিদাম থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়ে গেছেন। অভিযুক্তদের পক্ষ হতেও একটা অভিযোগ দেয়ার প্রক্রিয়া চলছে। আমরা উভয় অভিযোগ খতিয়ে দেখে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করব।