একটি সেতুর অভাবে বছরের পর বছর চরম দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার বঙ্গলতলী ইউনিয়নের ছয় গ্রামের প্রায় সাতশ পরিবারকে। এসব গ্রামের মানুষের উপজেলা সদরের সঙ্গে যোগাযোগের একমাত্র ভরসা এই সেতুটি। কাচালং নদীর শাখার তিনটিলা ছড়ার ওপর ৫০ ফুট দীর্ঘ কাঠের সেতুটি বর্তমানে বর্ষা মৌসুমে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। তারপরও প্রতিদিন কয়েকশ মানুষ জীবিকার তাগিদে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই সেতুর ওপর দিয়ে পারাপার হচ্ছে।

রাঙামাটি জেলার ভারতীয় সীমান্তবর্তী দেশের সবচেয়ে বৃহত্তম উপজেলা বাঘাইছড়ি। এই উপজেলায় ৮টি ইউনিয়ন। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় ইউনিয়ন হচ্ছে সাকেজ এবং দ্বিতীয় বড় ইউনিয়ন বঙ্গলতলী। এই বঙ্গলতলী ইউনিয়নটি উপজেলা সদর থেকে দশ কিলোমিটার দূরে। এই ইউনিয়নে প্রায় ৪০টি গ্রাম রয়েছে। এর মধ্যে ৬টি গ্রামের প্রায় চার হাজারেরও বেশি মানুষের একমাত্র ভরসা হচ্ছে কাচলং নদী শাখার তিনটিলা ছড়ার ওপর নির্মিত কাঠের তৈরি সেতুটি। পাশাপাশি এই ৬টি গ্রামের মানুষের উৎপাদিত কৃষিপণ্য বাজারজাত করার একমাত্র চলাচলের পথও এটি। ৬টি গ্রাম হলো- কাট্টোতলী (হেডম্যান পাড়া), ডাঙ্গাছড়া, উত্তর হাগলাছড়া, দক্ষিণ হাগলাছড়া, বেতাগীছড়া ও বালুখালী। স্থানীয়দের সহায়তায় ২০১৬-১৭ অর্থবছরে সেতুটি তৈরি করে বঙ্গলতলী ইউনিয়ন পরিষদ। পাঁচ বছরের পুরোনো এই কাঠের সেতুটি উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে দুই বছর ধরে খুবই নড়বড়ে অবস্থায় রয়েছে। এলাকাবাসী একটি পাকা সেতু নির্মাণের জন্য দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়ে এলেও কোনো সুফল পায়নি।

বঙ্গলতলী ইউপি সদস্য নিতিশ চাকমা সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় যে কোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটে প্রাণহানির আশঙ্কার কথা উল্লেখ করে বলেন, সেতুটি বেশ কয়েকবার পরিষদের পক্ষ থেকে মেরামত করেছি। বর্ষা মৌসুমের সময় সেতুটি বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। কারণ উজান থেকে পাহাড়ি ঢলের সঙ্গে গাছপালা ভেসে এসে সেতুটিকে ধাক্কা দেয়। ফলে যে কোনো সময় সেতুটি ভেসে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সেতুটি ভেঙে গেলে ৬টি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ উপজেলা সদরের সঙ্গে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে।

বঙ্গলতলী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জ্ঞানজ্যোতি চাকমা বলেন, এই সেতুর বিষয়ে বেশ কয়েকবার দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ে তদবির করার পর গত বছর ৩২ ফুট দৈর্ঘ্যের একটি সেতু দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বাঘাইছড়ি উপজেলার তৎকালীন প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা নুরুন্নবী সরকার পরিদর্শন করে এখানে ৩২ ফুট দৈর্ঘ্যের সেতু হলে টিকবে না বলে জানিয়েছেন। তাই নতুন করে ৬৯ ফুট দৈর্ঘ্যের সেতুর জন্য প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এখন কবে বাস্তবায়ন হবে তা বলতে পারছি না।

বাঘাইছড়ি উপজেলার নতুন প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন বলেন, সেতুটির বিষয়ে ইতোমধ্যে একটি প্রস্তাবনা মন্ত্রণালয়ে পাঠনো হয়েছে। প্রস্তাবনা পাস হলে সেতুর কাজ শুরু করা হবে।