অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে ঝুঁকি নিয়ে পদ্মা পাড়ি দেওয়ার দায়ে শিমুলিয়া ঘাটে ৪টি লঞ্চকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

লৌহজং থানার ওসি আলমগীর হোসাইন সমকালকে জানান, স্বাস্থ্যবিধি না মেনে অতিরিক্ত যাত্রী বহন করায় রোববার সকাল ৯টার দিকে ভ্রাম্যমান আদালতের বিচারক ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট কামরুল হাসান সোহেল নৌরুটে চলাচলরত ৪টি লঞ্চকে ৫ হাজার টাকা করে মোট ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। 

তিনি বলেন, ‘রোববার সকাল থেকেই শিমুলিয়া লঞ্চ টার্মিনালে যাত্রী চাপে স্বাস্থ্যবিধি ছিল উপেক্ষিত।এদিন জেলা প্রশাসনের ৫ জন নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেটের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালিত হয়েছে। মুন্সীগঞ্জের শিমুলিয়া ঘাটে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাচল করতে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমসহ নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করলেও যাত্রীদের মধ্যে উদাসীনতা লক্ষ্য করা গেছে ‘ 

গার্মেন্টসহ বিভিন্ন কলকারখানার শ্রমিকদের কর্মস্থলে ফেরার সুবিধার্থে সারাদেশে গণপরিবহন চলাচলের ঘোষণায় রোববার দিনভর মুন্সীগঞ্জের শিমুলিয়া ঘাটে যাত্রী ও যাত্রীবাহী গাড়ির চাপ ছিল অনেক। ফেরির পাশাপাশি নৌরুটে লঞ্চ চলাচলও করেছে। 

নৌরুটে চলাচলরত লঞ্চগুলোতে সকাল থেকেই ঢাকামুখী যাত্রীর চাপ ছিল অত্যাধিক। বাংলাবাজার ঘাট থেকে লঞ্চে গাদাগাদি করে যাত্রীরা পদ্মা পারাপার হয়ে শিমুলিয়া ঘাটে নামতে দেখা গেছে। যাত্রীদের মধ্যে কোনো স্বাস্থ্যবিধির বালাই নেই। অর্ধেক যাত্রী নিয়ে চলাচলের কথা থাকলেও কানায় কানায় পূর্ণ করে লঞ্চগুলো যাত্রী নিয়ে শিমুলিয়া ঘাটে নোঙর করেছে।কোনো কোনো লঞ্চের পেছনের ছাদেও যাত্রী লক্ষ্য করা গেছে। নিয়ম না মেনেই লঞ্চগুলোও অধিক যাত্রী নিয়ে ঝুঁকির মধ্যে পদ্মা পাড়ি দিয়েছে। 

রোববার শিমুলিয়া-বাংলাবাজার নৌরুটে ৮৭টি লঞ্চের মধ্যে ১৫টি চলাচল করেছে।

শিমুলিয়া-বাংলাবাজার নৌরুটের লঞ্চ মালিক সমিতির সিনিয়র সহ-সভাপতি ইকবাল হোসেন খান জানান, অনেক লঞ্চ মালিক অল্প সময়ের জন্য লঞ্চ চালাতে সম্মত হননি।

বিআইডব্লিউটিএ’র শিমুলিয়া ঘাটের নদীবন্দর কর্মকর্তা মো. সোলাইমান বলেন, রোববার দুপুর ১২টা পর্যন্ত লঞ্চ চলার নির্দেশনা রয়েছে। 

বিআইডব্লিউটিসির শিমুলিয়া ঘাটের উপ-মহাব্যবস্থাপক বাণিজ্য শফিকুল ইসলাম বলেন, নৌরুটে বর্তমানে ৯টি ফেরি চলছে। লঞ্চ চলাচল করায় ফেরিতে যাত্রী চাপ কিছুটা কমেছে।