জুলাই মাসের শুরুটা ছিল করোনা রোগী, তাদের স্বজন, হাসপাতালের চিকিৎসক ও সেবিকাদের কাছে বিভীষিকাময়। মাসের প্রথম দুই সপ্তাহ খুলনার দুটি করোনা হাসপাতালের একটিতেও শয্যা ফাঁকা ছিল না। প্রতিদিনই রোগী ও স্বজনদের আহাজারিতে ভারি থাকত হাসপাতালের পরিবেশ। হাসপাতালে ভর্তি হতে অ্যাম্বুলেন্সে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা ছিল নিত্যদিনের বিষয়।

মাস শেষে স্বাস্থ্য বিভাগের পরিসংখ্যানেও উঠে আসে জুলাইয়ের ভয়াবহতা। 

পরিসংখ্যান বলছে, খুলনা বিভাগে গত ১৬ মাসে মৃত্যু হয়েছে ২ হাজার ৪২৮ জন রোগীর। এর মধ্যে শুধু জুলাই মাসেই মারা গেছেন ১ হাজার ৩১৯ জন, যা মোট মৃত্যুর ৫৪ দশমিক ৩২ শতাংশ। অর্থাৎ ১৬ মাসের মধ্যে অর্ধেকের বেশি রোগী মারা গেছেন বিদায়ী জুলাই মাসে।

খুলনার স্বাস্থ্য বিভাগের পরিসংখ্যানে আরও দেখা গেছে, গত ১ জুলাই থেকে ১ আগস্ট পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন সর্বোচ্চ সংখ্যক মানুষ। জুলাইয়ের ৩১ দিনে বিভাগের ১০ জেলায় ৩৬ হাজার ২৯২ জন নতুন করে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। গত ১৬ মাসের মধ্যে যা সর্বোচ্চ। গত ১৬ মাসে মোট আক্রান্ত হয়েছেন ৯৩ হাজার ৮১২ জন। এর প্রায় ৩৯ ভাগ আক্রান্ত হয়েছেন জুলাইয়ে। এ মাসে প্রতিদিন গড়ে ৪২ জন মানুষ মারা গেছেন।

স্বাস্থ্য-সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, জুলাই মাসে রোগীর চাপ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় নতুন করে আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতালে করোনা ইউনিট খোলা হয়। খুলনা ডেডিকেটেড করোনা হাসপাতালে বাড়ানো হয় শয্যাসংখ্যা। এ ছাড়া খুলনার দুটি বেসরকারি হাসপাতালে করোনা ইউনিট চালু হয়। তারপরও প্রথম দুই সপ্তাহ রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খেতে হয়েছে। তবে আশার কথা হচ্ছে, মাসের শেষ দিকে পরিস্থিতির অনেকটা উন্নতি হয়েছে। বর্তমানে বিভাগে সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার কমেছে।

স্বাস্থ্য বিভাগের খুলনা বিভাগীয় পরিচালক ডা. জসিম উদ্দিন হাওলাদার বলেন, রোগী ও শনাক্তের হার আপাতত কমলেও স্বস্তি প্রকাশের সুযোগ নেই। কারণ স্বাস্থ্যবিধি মানতে মানুষের অনীহা, মাস্ক না পরাসহ নানা কারণে যে কোনো মুহূর্তে সংক্রমণ আবারও বেড়ে যেতে পারে। এ জন্য স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালনের পাশাপাশি টিকাদানে মানুষকে উৎসাহিত করা হচ্ছে।

স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে জানা গেছে, গত বছররে ১৯ মার্চ খুলনা বিভাগে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয় চুয়াডাঙ্গা জেলায়। খুলনায় করোনা আক্রান্ত হয়ে প্রথম মৃত্যু ঘটে ২১ এপ্রিল। গতকাল ১ আগস্ট পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৯৩ হাজার ৮১২ জন। এর মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১৩ হাজার ৪৫০ জন। মারা গেছেন দুই হাজার ৪২৮ জন। সুস্থ হয়েছেন ৭০ হাজার ৯৫ জন।