প্রেমের ফাঁদে ফেলে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে নবম শ্রেণিতে পড়ুয়া কিশোরীকে ধর্ষণ করে যুবক আনোয়ার হোসেন। বিষয়টি জানাজানি হলে মেয়ের স্বজনরা ছেলের পরিবারের কাছে বিচার প্রার্থী হয়। পরে ওই যুবকের পরিবারের লোকজনসহ ও স্থানীয় এক জনপ্রতিনিধি মেয়ের পরিবারকে ৫০ হাজার টাকা দিয়ে মীমাংসার জন্য চাপ দেন। 

কিশোরীর বাবা এই মীমাংসা না মেনে পুলিশের দ্বারস্থ হন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার সোহাগী ইউনিয়নের একটি গ্রামের ভাসা মিয়ার ছেলে আনোয়ার হোসেন (২১)। প্রতিবেশী দিনমজুরের স্কুলছাত্রী মেয়ের সঙ্গে দেড় মাস আগে প্রেমের সম্পর্ক হয় তার। বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে আনোয়ার গত ২৬ জুলাই রাতে মেয়েটিকে বাড়ির পেছনের একটি কলাবাবানে নিয়ে ধর্ষণ করে। বিষয়টি জানাজানি হলে মেয়ের স্বজনরা আনোয়ারের বাবার কাছে গিয়ে বিচার চান। পরে ওই রাতেই লোকজন নিয়ে মেয়েটির বাড়িতে গিয়ে আনোয়ারকে 'ক্ষমা' করে দেওয়ার অনুরোধ করেন ভাসা মিয়া। কিন্তু মেয়েটির বাবা থানায় যেতে চাইলে বাধা দেন স্থানীয় ইউপি সদস্য ফজলুল হক। তিনি উপযুক্ত বিচারের আশ্বাস দিয়ে মেয়েটিকে আনোয়ারের বাড়িতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। শনিবার মেয়েটিকে তাদের বাড়িতে পাঠানো হলে শুরু হয় নির্যাতন। বাড়ির লোকজন সবাই মিলে মেয়েটিকে মারধর করে। এমন অবস্থায় আবারও সমাধানের আশ্বাস দিয়ে ইউপি সদস্য ফজলুল হক ওই কিশোরীর বাবাকে বলেন, ৫০ হাজার টাকা নিয়ে বিষয়টি মিটমাট করে ফেলেন।

অভিযোগের বিষয়ে ইউপি সদস্য ফজলুল হক বলেন, 'বিয়ের প্রলোভনে মেয়েটির সঙ্গে ছেলেটি সম্পর্ক স্থাপন করেছে। দুটি পরিবারই দরিদ্র। ওই অবস্থায় গ্রামের দু-চারজন লোক বলেছেন, মেয়েটির বিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে ২০-৩০ হাজার টাকা যদি লাগে তা দিয়ে শেষ করে দিতে। কিন্তু তাতে মেয়ের বাবা রাজি নন। আমি ৫০ হাজার টাকা সাধিনি। আমি তাকে আটকেও রাখিনি। তাকে থানায় যেতে আমিই পরামর্শ দিয়েছি।'

ঈশ্বরগঞ্জ থানার ওসি আবদুল কাদের মিয়া বলেন, রোববার দুপুরে ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রাথমিক তদন্ত করা হয়েছে। এ ঘটনায় নির্যাতিত কিশোরীর পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করা হয়েছে। অভিযুক্ত আনোয়ার হোসেন পলাতক। তাকে গ্রেপ্তারে চেষ্টা চলছে।