বরিশাল নৌ-বন্দর থেকে রোববার রাতে তিনটি লঞ্চ যাত্রী নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে গেছে। 

বিআইডব্লিউটিএর বরিশাল অঞ্চলের যুগ্ম পরিচালক (বন্দর ও পরিবহন) মো. মোস্তাফিজুর রহমান সমকালকে জানান, বরিশালে নৌ-বন্দর থেকে প্রথমে রাত পৌনে ৯টায় বরিশাল নৌ-বন্দর ত্যাগ করে অ্যাডভেঞ্চার-৯। পরে রাত ৯টায় ছেড়ে গেছে কুয়াকাটা-২। সর্বশেষ রাত সোয়া ৯টায় ছেড়েছে কীর্তনখোলা-২ লঞ্চ। 

অ্যাডভেঞ্চার -৯ লঞ্চের সুপার ভাইজার সেলিম মাহমুদ এবং কীর্তনখোলা -২ লঞ্চের সহকারী ব্যবস্থাপক বেলাল হোসেন জানান, নৌ বন্দর কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসনের অনুরোধে এবং যাত্রীদের দুর্ভোগের কথা ভেবে তারা ঢাকার উদ্দেশ্যে লঞ্চ ছেড়েছেন। 

এর আগে রোববার সন্ধ্যায় বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ওই তিন লঞ্চের মালিকদের সঙ্গে আলোচনা করে যাত্রী পরিবহন করাতে সম্মত হন। 

এর আগে মোস্তাফিজুর রহমান সমকালকে জানিয়েছিলেন, রোববার সন্ধ্যায় বরিশাল নৌবন্দরে বর্তমানে নয়টি লঞ্চ নোঙ্গর করে ছিল। এসব লঞ্চের মাস্টার-ড্রাইভারসহ অধিকাংশ শ্রমিক ছুটিতে। যাত্রী পরিবহনের জন্য মালিকদের কোনো প্রস্তুতি নেই।তবে জনদুর্ভোগের কথা চিন্তা করে মালিকদের লঞ্চ ছাড়ার জন্য অনুরোধ করা হলে তিন জন মালিক এতে সম্মতি দিয়েছেন। 

রোববার দুপুরের পর থেকে বরিশাল নৌবন্দরে ঢাকাগামী যাত্রীরা আসতে শুরু করেন। শত শত যাত্রী পল্টুনে অপেক্ষা করেন লঞ্চের জন্য। কিন্তু লঞ্চ কর্তৃপক্ষ ঢাকা না যাওয়ার সিদ্ধান্তে অনড় থাকায় অনেক যাত্রী ফিরে যান। পরে তারা সড়ক পথে ঢাকা যান।

রোববার বিকেলের দিকে আরও অনেক যাত্রী আসতে থাকেন। লঞ্চ না ছাড়ার সিদ্ধান্ত জেনে উপস্থিত যাত্রীদের মধ্য ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ যাত্রীরা এক রকম জোর করে অ্যাডভেঞ্চার -৯ লঞ্চটিতে উঠে পড়েন। তারা স্বাস্থ্যবিধির তোয়াক্কা না করে গাদাগাদি-ঠাসাঠাসি করে লঞ্চের ডেকগুলোতে বিছানার চাদর বিছিয়ে অবস্থান নেন।