নড়াইলে ফসিয়ার মোল্যা নামে এক ব্যবসায়ীকে মারধরের পর চলন্ত ট্রাকের সামনে ফেলে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। বর্তমানে তিনি সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। 

এ ঘটনায় আহতের ছেলে হবখালী ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতিসহ আটজনের বিরুদ্ধে সদর থানায় মামলা করেন। তবে বাদীর অভিযোগ, আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও গ্রেপ্তার হচ্ছেন না কেউ। গত বুধবার সদরের হবখালী ইউনিয়নের ডাঙ্গা সিঙ্গিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, ডাঙ্গা সিঙ্গিয়া গ্রামের ফসিয়ার মোল্যা বাড়ির পাশে নড়াইল-মাগুরা সড়কের পাশে মুদি ব্যবসা করেন। বুধবার সকাল ১০টার দিকে তিনি দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। এ সময় মামলার প্রধান আসামি মনিরুল মোল্যার নির্দেশে ডাঙ্গা সিঙ্গিয়া গ্রামের হাসান শেখসহ আটজন ফসিয়ারকে বেদম মারধর করে চলন্ত একটি ট্রাকের সামনে ফেলে দেয়। এ সময় তার ডান পায়ের হাঁটুর গোড়ালি চাকার নিচে পড়ে থেতলে যায় এবং শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ক্ষতবিক্ষত হন। পরে তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

আহত ব্যবসায়ী ফসিয়ারের ছেলে আজিজুল ইসলাম অভিযোগ করেন, সম্প্রতি হাসান আমাদের দোকানে ডিজেল বাকিতে কিনতে গেলে বাবা আগের পাওনা এক হাজার ৩০০ টাকা পরিশোধ না করলে তেল দেবে না জানালে সে ক্ষেপে যায়। এ ছাড়া স্থানীয় নবগঙ্গা নদীতীরে পাটকাঠি রাখাকে কেন্দ্র করে হাসানের সঙ্গে বাবার মনোমালিন্য চলছিল।

মামলার প্রধান আসামি হবখালী ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মনিরুল মোল্যা বলেন, হাসান ও ফসিয়ার দু'জনে জোরাজুরি করতে গিয়ে ফসিয়ার রাস্তার ওপর পড়ে গেলে ট্রাকের ধাক্কায় সে আহত হয়। তাকে ট্রাকের সামনে ধাক্কা দেওয়ার কথা অস্বীকার করেন তিনি।

মামলার বাদী মহসিন মোল্যা অভিযোগ করেন, আমার চোখের সামনে আসামিরা আমার বাবাকে চলন্ত ট্রাকের সামনে ফেলে দেয়। আমরা এর সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি। আসামি হাসান ছাড়া বাকি আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই অপু মিত্র বাদীর অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আসামিদের গ্রেপ্তার করতে গত শনিবার রাতেও অভিযান চালানো হয়েছে। আসামিরা কেউ এলাকার শান্তি বিঘ্নিত করার চেষ্টা করলে অবশ্যই আমরা আইনগত ব্যবস্থা নেব।