কুষ্টিয়ার খোকসায় গ্রামে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে রাতে প্রতিপক্ষের লোকজন পাঁচটি বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় একজন গুলিবিদ্ধসহ আটজন আহত হয়েছেন।

শনিবার রাত ১২টার দিকে উপজলার ওসমানপুর ইউনিয়নের ওসমানপুরে এ হামলার ঘটনাটি ঘটেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাতে সবাই নিজ নিজ ঘরে ঘুমিয়ে ছিল। এ সময় পাশের গ্রাম দেবীনগর পশ্চিমপাড়ার একটি চায়ের দোকানে সালিমসহ অন্যরা কথাবার্তা বলছিলেন। হঠাৎ ৪০-৪৫ জন অস্ত্রধারী তাদের ওপর অতর্কিত বন্দুকের গুলি ছুড়তে থাকে। এতে সালিম (৩৫) গুলিবিদ্ধ হন। 

এ সময় হামলাকারীরা ব্রিক ফিল্ডে বসবাসকারী ফারুক, হেলাল, মতিন, চায়না ও আতির বাড়িতে হামলা করে ভাঙচুর ও লুটতরাজ চালায়। হামলায় ফারুক (৪৫), তার স্ত্রী রাহেলা (৩৬) ও তার শাশুড়ি আলোয়াসহ (৬০) আট নারী-পুরুষ আহত হন। গুলিবিদ্ধ ব্যক্তিসহ তিনজনকে উপজোলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

আহত ফারুকের মা বৃদ্ধা আমেনা বলেন, রাতে গুলির শব্দে তার ঘুম ভেঙে যায়। এর কিছু সময় পর সন্ত্রাসীরা তার বাড়িতে হামলা করে দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে তার ঘুমন্ত ছেলে-বউকে কোপায়। ছেলে ও ছেলের শাশুড়ির ঘর থেকে কয়েক হাজার নগদ টাকা ও স্বর্ণের অলংকার লুট করে নিয়ে যায়। হামলাকারীদের দু'জনের হাতে বন্দুক ছিল।

হামলায় গুলিবিদ্ধ সালিম অভিযোগ করেন, রাতে যখন তারা দেবীনগর পশ্চিমপাড়ায় ওমর আলীর চায়ের দোকানে বসে চা খাচ্ছিল। এ সময় তার প্রতিপক্ষ সামিরুল ও তার লোকজন অতর্কিতে গুলি চালায়। পরে সন্ত্রাসীরা ব্রিক ফিল্ডে বসবাসকারীদর বাড়িতে গিয়ে হামলা করে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য জহুরুল ইসলাম স্বীকার করেন, রাতে সামিরুলের লোকজন সাধারণ গ্রামবাসীর ওপর গুলি চালিয়েছে। তার মাধ্যমে সামিরুলের ফোন নম্বর জোগারের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু তিনি জানিয়ে দেন, তারা চরমপন্থি। তারা রাতে আসে রাতে যায়। তাদের ফোন নম্বর ঠিক নেই।

ওসমানপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আনিসুর রহমান জানান, সন্ত্রাসীরা এক গ্রুপে ছিল। নিজেদের মধ্যে ভাগবাটোয়ারা নিয়ে আবার বিরোধ লেগেছে। এসব সন্ত্রাসী এক হয়ে তার বাড়িতেও হামলা করেছিল বলে তিনি দাবি করেন।

স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, সালিম-ফারুকদের সঙ্গে সামিরুলের ব্যক্তিগত বিরোধ বেশকিছু দিনের।

থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সৈয়দ আশিকুর রহমান বলেন, মামলার ড্রাফট চলছে। গুলি চালানোর ঘটনায় জড়িতদের ধরতে অভিযান চলছে।