সড়কের বিভিন্ন স্থান থেকে বিটুমিন উঠে তৈরি হয়েছে ছোট-বড় গর্ত। বৃষ্টিতে গর্ত রূপ নিয়েছে ডোবায়। সেই গর্ত দিয়ে হেলেদুলে চলছে যানবাহন। প্রায়ই ইজিবাইক উল্টে দুর্ঘটনা ঘটছে। কাদাপানিতে নাকাল হচ্ছে মানুষ। আশপাশের ১০ গ্রামের ৫০ হাজার মানুষের কষ্টের নাম ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার গোপালপুর সড়ক।

উপজেলা এলজিইডি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, আলফাডাঙ্গা সদর থেকে গোপালপুর বাজার পর্যন্ত ৯ কিলোমিটার সড়কটি সর্বশেষ সংস্কার হয় ২০১৭-১৮ সালে। 

সংস্কারের প্রায় দু'বছর পর সড়কের অনেক অংশে খানাখন্দে ভরে গেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে খারাপ কামারগ্রাম সাবেক ডিএমপি কমিশনার আসাদুজ্জামান মিয়ার বাড়ি থেকে গোপালপুর বাজার পর্যন্ত। দুর্ভোগ এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, সড়কে বিভিন্ন যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এখন সীমিত পরিসরে ইজিবাইক ঝুঁকি নিয়ে চলছে। এর আগে এলাকাবাসী সড়কে ধান লাগিয়ে প্রতিবাদ করেছেন।

কামারগ্রামের সোহান ইসলাম বলেন, প্রতিদিন এ অঞ্চলের মানুষ এই সড়ক দিয়ে আসা-যাওয়া করে যে দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন, তা বলে বোঝানোর নয়। পিচের না মাটির রাস্তা, তা-ই বুঝি না। প্রধান সড়কের চলাচলের যানবাহন সেখানে চলাচল করতে না পেরে গ্রামের মধ্য দিয়ে ছোট রাস্তায় চলাচল করছে, এতে করে এসব গ্রামের সড়কের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। দ্রুত সড়ক সংস্কারের জন্য আমরা অনুরোধ জানিয়েছি।

গোপালপুর গ্রামের বাসিন্দা আনিচ কাজী বলেন, সড়ক সংস্কারের অভাবে আমাদের এই অঞ্চলের মানুষ অনেক কষ্টে রয়েছেন। ২০ মিনিটের রাস্তা এক ঘণ্টার বেশি সময় ব্যয় হয়। পরিবার নিয়ে কোথাও যেতে ইচ্ছে করে না। গাড়ি উল্টে যাওয়ার ভয় থাকে সড়কে। আমরা এই সড়কের দ্রুত সংস্কার চাই। দুঃখের কথা, এই বেহাল সড়কে এখন চলছে বালু বহন করা ট্রলি। নিষিদ্ধ এই যানবাহন চলাচলে সড়কটি খানাখন্দ হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

গোপালপুর বাজার বণিক সমিতির সভাপতি আমিরুল ইসলাম জানান, উপজেলা সদর থেকে সব থেকে বড় বাজার হলো এটি। এই বাজারে সপ্তাহে দু'দিন হাট বসে। সড়কের যে বেহাল দশা, তাতে করে আমাদের বাজারে ক্রেতা নেই। সড়কের সংস্কার না হলে বাজার ব্যবসায়ীদের বড় ধরনের ক্ষতি হয়ে যাবে।

উপজেলা প্রকৌশলী রাহাত ইসলাম জানান, দরপত্র প্রক্রিয়া শেষ করে খুব শিগগির সড়কের কাজ শুরু হবে। এর আগে ইট ও সুরকি দিয়ে সড়কটি চলাচল উপযোগী করা হবে। আমরা ইতোমধ্যে কাজ শুরু করে দিয়েছি।

ইউএনও তৌহিদ এলাহী জানান, স্থানীয় সংসদ সদস্যের সঙ্গে এ ব্যাপারে কথা হয়েছে, দ্রুত সংস্কার কাজ শুরু হবে।

উপজেলা চেয়ারম্যান একেএম জাহিদুল হাসান বলেন, আমরা কিছুদিন আগে খানাখন্দে ইট ও সুরকি দিয়ে সড়কটি চলাচলের উপযোগী করেছিলাম। তবে ভারি বর্ষণে তা নষ্ট হয়ে যায়।