নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে সজিব গ্রুপের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান হাসেম ফুড অ্যান্ড বেভারেজ কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে পরিচয় শনাক্ত হয়েছে। আগামীকাল বুধবার থেকে নিহতদের লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা শুরু হবে। 

প্রথম দিনে বুধবার পরিচয় শনাক্ত হওয়া ৪৫ জনের মধ্যে ২৪ জনের লাশ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে নিশ্চিত করেছেন নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) শামীম বেপারী।

পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) নারায়ণগঞ্জের বিশেষ পুলিশ সুপার মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, ডিএনএ পরীক্ষা করে ৪৫ জনের পরিচয় শনাক্ত করা গেছে। পরিচয় শনাক্ত হওয়ায় এসব লাশ বুধবার দুপুর ২টা থেকে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

তিনি আরও বলেন, প্রথম দিন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গ থেকে ২৪ জনের লাশ হস্তান্তর করা হবে। পরের দুই দিনে ধরাবাহিকভাবে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের মর্গে থাকা লাশ হস্তান্তর করা হবে। তবে এখনো তিনজনের পরিচয় শনাক্ত হয়নি বলে জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।

নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ বলেন, লাশ দাফন ও সৎকারের জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রত্যেক পরিবারকে ৫০ হাজার টাকা করে নগদ দেওয়া হবে।

গত ৮ জুলাই বিকেলে রূপগঞ্জ উপজেলার কর্ণগোপ এলাকায় অবস্থিত হাসেম ফুড অ্যান্ড বেভারেজ কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে ৫১ জনের মৃত্যু হয়, যাদের ৪৮ জনের লাশ পুড়ে বিকৃত হয়ে গেছে।

এ ঘটনায় রূপগঞ্জ থানায় ১০ জুলাই একটি হত্যা মামলা করেন ভুলতা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক নাজিম উদ্দিন। পরে মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পায় সিআইডি। ওই মামলায় পুলিশ সজীব গ্রুপের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবুল হাসেম, তার ছেলে হাসীব বিন হাসেম, তারেক ইব্রাহীম, তাওসীব ইব্রাহীম, তানজীম ইব্রাহীম, প্রতিষ্ঠানের সিইও শাহেন শান আজাদ, উপ-মহাব্যবস্থাপক মামুনুর রশিদ, সিভিল ইঞ্জনিয়ার ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. সালাউদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে।