রাজনীতি ছেড়ে দেওয়ার ঘোষণা নিয়ে দুই রকম বক্তব্য দিয়েছেন নোয়াখালী-৪ (সদর-সুবর্ণচর) আসনের সংসদ সদস্য একরামুল করিম চৌধুরী। প্রথমে দুপুরে এক প্রকাশ্য সভায় রাজনীতি ছেড়ে দেওয়ার ঘোষণা দেন তিনি। এরপর ফেসবুকে লাইভে এসে এমপি একরামুল চৌধুরী বলেন, তার বক্তব্য ভুলভাবে প্রচার করা হয়েছে।

বঙ্গবন্ধু তনয় শহীদ শেখ কামালের ৭২তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বৃহস্পতিবার দুপুরে জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে আয়োজিত দোয়া ও আলোচনা সভায় এমপি একরামুল চৌধুরী বলেন, 'আমি ও আমার ছেলে সিদ্ধান্ত নিয়েছি, আমরা আর রাজনীতি করব না। শুধু নোয়াখালীর রাজনীতির সঙ্গে নয়, সারা বাংলাদেশের আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে আর থাকব না।' 

দলীয় সকল কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, 'আমি নিজের টাকায় রাজনীতি করি। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ নিয়ে রাজনীতি করি। একটি পক্ষ নোয়াখালী জেলাকে আবার উচ্ছৃঙ্খল করার চেষ্টা করছে।' 

এদিকে একরাম চৌধুরীর আওয়ামী লীগ ছাড়ার ঘোষণা সংবলিত বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে মুহূর্তের মধ্যে তা ভাইরাল হয়ে যায়। 

এরপর বেলা পৌনে ৩টার দিকে একরামুল করিম চৌধুরী ফেসবুক লাইভে এসে বলেন, 'একটি টিভি চ্যানেল সবসময় বিভ্রান্তিকর খবর ছড়িয়ে আমাদের দলে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে। আমি শেখ কামালের জন্মদিনের অনুষ্ঠানে এসেছিলাম, সেখানে বক্তব্য দিয়েছি। যমুনা টিভি এটাকে ভুলভাবে ব্যাখ্যা দিয়েছে যে, আমি আওয়ামী লীগ ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছি। ওইখানে আমি গত আওয়ামী লীগ সম্মেলনে যারা আমার ছাত্রলীগ-যুবলীগ নেতাকর্মীদের পিটিয়ে ছিল তাদের বিরুদ্ধে কিছু কথা বলেছিলাম।' 

ফেসবুক লাইভে তিনি আরও বলেন, 'বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ আমার প্রাণ। বিভিন্ন নোংরামির কারণে আমার পরিবার চায় আমি যেন রাজনীতি থেকে সরে আসি। তবে দল যতদিন চায় ততদিন আমি দলের জন্য কাজ করে যাব।' এ সময় তিনি যমুনা টিভির সাংবাদিকের তীব্র সমালোচনা করেন। 

এ ব্যাপারে নোয়াখালীর পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও অনুষ্ঠানের সঞ্চালক আবদুল ওয়াদুদ পিন্টুর সঙ্গে কথা বললে তিনি বলেন, 'এমপি একরামুল করিম চৌধুরী এমন বক্তব্য দেননি। তিনি বলেছেন, নেতাকর্মীরা যতদিন তাকে চাইবেন ততদিন তিনি দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকবেন।' অনুষ্ঠানের সভাপতি ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এএইচএম খাইরুল আনম চৌধুরী সেলিমের সঙ্গে কথা বললে তিনি এ ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

দুপুরের ওই সভায় অনান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান একেএম সামছুদ্দিন জেহান, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাওলা লিটন, আবদুল মমিন বিএসসি, অ্যাডভোকেট আতাউর রহমান নাছের, জেলা যুবলীগ আহ্বায়ক ইমন ভট্ট, ছাত্রলীগ সভাপতি আসাদুজ্জামান আরমান প্রমুখ।

এর আগে জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে শেখ কামালের প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়।