চট্টগ্রামে 'ফুসফুস' হিসেবে পরিচিত সিআরবিতে হাসপাতাল নির্মাণ বন্ধে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে চিঠি দিয়েছে এক স্কুলছাত্রী। তার নাম মিমবর হুরে জান্নাত। সে নগরীর পাঁচলাইশ সুগন্ধা আবাসিক এলাকার বাসিন্দা এবং নাসিরাবাদ হাউজিং সোসাইটির অংকুর সোসাইটি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ঘষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী। 

বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর বরাবর ডাকযোগে এই চিঠি পাঠান মিমবর। এতে সিআরবিকে নিয়ে তার লেখা তিনটি কবিতাও যুক্ত করেন বলে জানিয়েছেন তার মামা বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের যুগ্ম মহাসচিব মহসিন কাজী।

এদিকে কাফনের কাপড় পরে সিআরবিতে হাসপাতাল নির্মাণের প্রতিবাদ জানিয়েছেন সৈয়দ শিবলী সাদিক নামের এক লেখক-সাংবাদিক। চট্টগ্রাম থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক চাটগাঁর সংবাদের স্টাফ রিপোর্টার তিনি। তার বাড়ি চট্টগ্রামের চন্দনাইশে।

প্রধানমন্ত্রী বরাবরে লেখা চিঠিতে মিমিবর লেখে, 'চট্টগ্রামের সকল শিশুদের পক্ষ থেকে একটি মানবিক আবেদন জানাচ্ছি। চট্টগ্রাম শহরের অধিকাংশ শিশু চার দেয়ালের মাঝে বন্দি জীবন কাটায়। একটু অবসর পেলেই সিআরবিতে গিয়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস নেয়। শুধু শিশুরাই নয় নবীন-প্রবীণ সকল শ্রেণির মানুষ এখানে এসে প্রকৃতিকে উপভোগ করে।' 

চিঠিতে সে আরও লেখে, 'শতবর্ষী বৃক্ষের বৈচিত্র্যে ভরা চট্টগ্রামের ফুসফুসটিকে ধ্বংস করে বাংলাদেশ রেলওয়ে সেখানে নাকি একটা বেসরকারি হাসপাতাল বানাতে চায়। হাসপাতাল হোক কিন্তু সেটা ফুসফুসকে ধ্বংস করে নয়। এটাই বীর চট্টলার দাবি। এ দাবির জন্য এতো আন্দোলন, এত ক্ষোভ, এত সভা।'

মিমবর লেখে, 'আমি ছোট মানুষ, তাও সিআরবিকে আমি অনেক ভালোবাসি। তাই আমি সিআরবি রক্ষার প্রতিবাদ স্বরূপ তিনটি কবিতা লিখেছি। আশাকরি আপনি সেগুলো দেখবেন। আমরা আপনাকে শিশুপ্রেমী, প্রকৃতিপ্রেমী ও মানবতাবাদী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে জানি। আপনি একজন সত্যবাদী, নিষ্ঠাবান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বিশ্বের ইতিহাসে নাম লিখিয়েছেন।'

চিঠির শেষাংশে সে লেখে, 'মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, তুমি আমার শ্রদ্ধেয় নানুর মতো। আর আমি তোমার নাতনির বয়সী। তাই আশা করি তুমি আমার আবদার ফেলবে না।'

কাফনের কাপড় পরে সিআরবিতে হাসপাতাল নির্মাণের প্রতিবাদ জানিয়েছেন সৈয়দ শিবলী সাদিক নামের এক লেখক-সাংবাদিক -সমকাল

এদিকে বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে কাফনের কাপড় পরে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব থেকে হেঁটে সিআরবিতে যান শিবলী সাদিক। এরপর সিআরবির যেখানে হাসপাতাল প্রকল্পের ব্যানার টাঙানো হয় সেখান শুয়ে পড়েন এবং অনশন শুরু করেন তিনি। 

বিকেল ৩টার দিকে প্রবীণ সাংবাদিক জসিম উদ্দীন চৌধুরী সবুজ পানি পান করিয়ে তার অনশন ভাঙান। এ সময় উপস্থিত ছিলন- চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পলি বিভগের সাবেক চেয়ারম্যান ড. জিনবোধী ভিক্ষু, কবি অভীক ওসমান ও সাপ্তাহিক চাটগাঁর সম্পাদক নুরুল আবছার চৌধুরী প্রমুখ।

এ ব্যাপারে সাংবাদিক শিবলী সাদিক সমকালকে বলেন, 'সিআরবিতে হাসপাতাল নির্মাণ করা হলে সেখানকার পরিবেশ একেবারে ধ্বংস হয়ে যাবে। সিআরবি রক্ষায় চট্টগ্রামের মানুষ আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। চলমান এই আন্দোলনে একাত্মতা প্রকাশ করে কাফনের কাপড় পরে প্রতিবাদ জানিয়েছি।'