সড়কের বেহাল দশা। তাই ৭৫ বছর বয়সী অসুস্থ চাচা আব্দুল জলিলকে মাথায় টুকরিতে বসিয়ে নেবুলাইজার দিতে বাড়ি থেকে দেড় কিলোমিটার দূরে একটি ফার্মেসিতে নিয়ে যান ভাতিজা জয়নাল আবেদীন। কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর উপজেলার ধামঘর ইউনিয়নের পরমতলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। 

বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ ঘটনার ছবি ও ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। রাস্তার এমন বেহাল দশার কথা স্বীকার করেছেন স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা প্রকৌশলী। রাস্তার উন্নয়নে ডিও লেটার দিয়েছেন স্থানীয় এমপি। 

  স্থানীয় সূত্র জানায়, বুধবার সকাল ১০টায় অসুস্থ আব্দুল জলিলের শ্বাসকষ্ট বেড়ে গেলে তার ভাতিজা জয়নাল আবেদীন চাচাকে মাথায় টুকরিতে বসিয়ে পাশের গ্রাম পরমতলা এলাকার একটি ফার্মেসিতে নিয়ে যান। এ সময় স্থানীয় এক ব্যক্তির ধারণ করা ভিডিও ও ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। 

বর্তমানে ওই রাস্তাটির বিভিন্ন স্থানে ছোট-বড় গর্ত ও পুকুরে ভেঙে পড়ার কারণে পায়ে হেঁটে যেতেও দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে স্থানীয়দের। 

অসুস্থ চাচাকে মাথায় করে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়া ভাতিজা জয়নাল আবেদীন বলেন, 'চাচার অসুস্থতার কথা ভেবে কোনো উপায় না পেয়ে মাথায় টুকরিতে বসিয়ে নেবুলাইজার দিতে ফার্মেসিতে নিয়ে যাই। এ সময় একজন ছবি ও ভিডিও করে ফেসবুকে ছেড়ে দেয়। বিষয়টি পড়ে জানতে পেরেছি।'

ওই রাস্তার বিষয়ে মুগসাইর গ্রামের আব্দুস ছালাম মাস্টার ও নূরে আলম সিদ্দিক বলেন, আগে যে রাস্তাটি দিয়ে তিন চাকার গাড়ি চলতো সেখানে এখন বড় বড় গর্ত হওয়ায় যান চলাচল বন্ধ। পরমতলা পশ্চিমপাড়া হাজী বাড়ি থেকে লক্ষ্মীপুর চরখখোলা হয়ে দারোরা বাজার পর্যন্ত ৪ কিলোমিটার রাস্তাটি চার গ্রামের কয়েক হাজার মানুষের চলাচলের রাস্তা। গত বছরের ১৯ জুলাই স্থানীয় সরকার বিভাগে রাস্তাটি সংস্কারের বিষয়ে আবেদন করা হয়েছে। 

পরমতলা গ্রামের অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, চার কিলোমিটার দীর্ঘ এই রাস্তাটি দিয়ে পরমতলা, লক্ষ্মীপুর, মুগসাইর ও দারোরা গ্রামের কয়েকশ শিক্ষার্থীসহ প্রায় ৯ হাজার মানুষকে ভোগান্তি নিয়ে চলাচল করতে হয়।  রাস্তাটি পাকা করা হলে শিক্ষার্থীসহ সর্বসাধারণের বহুদিনের ভোগান্তি লাঘব হবে। 

লক্ষ্মীপুর গ্রামের বীরমুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মজিদ, পরমতলা গ্রামের বীরমুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী ও খোরশেদ আলম বলেন, সামান্য বৃষ্টি হলেই এ রাস্তা দিয়ে যানবাহন চলাচল তো দূরের কথা, মানুষ পায়ে হেঁটে যেতেও মারাত্মক অসুবিধায় পড়তে হয়। বিশেষ করে কেউ অসুস্থ হলে আরও সমস্যায় পড়তে হয়। অবিলম্বে এ সড়ক মেরামতের দাবি জানান তারা। 

ধামঘর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবুল হাসেম বলেন, স্বর্ণকার বাজার থেকে দারোরা বাজার পর্যন্ত রাস্তাটির বেহাল দশা। বৃষ্টি হলে এ রাস্তা দিয়ে কোনো যানবাহন চলাচল করতে পারে না। উপজেলা প্রকৌশলী রাস্তাটি পরিদর্শন করে গেছেন। 

তিনি আরও বলেন, এ রাস্তাটি প্রশস্ত করতে বড় সমস্যা হলো, কেউ জমি দিতে চায় না। রাস্তার পাশে কয়েকটি পুকুর আছে, সম্প্রতি বৃষ্টিতে রাস্তা ভেঙে গেছে। তাই যানবাহন চলাচল করতে পারে না। 

মুরাদনগর এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর কবির বলেন, ওই রাস্তাটির বেহাল দশার খবর পেয়ে সেখানে গিয়ে এর সত্যতা পাওয়া গেছে। তাই রাস্তাটি উন্নয়ন প্রকল্পের অর্ন্তভুক্ত করা হয়েছে। প্রায় ৪ কিলোমিটার রাস্তাটি কাঁচা, তাই পুরোটাই পাকা করতে হবে, এ বিষয়ে স্থানীয় সংসদ্য ইউসুফ আবদুল্লাহ হারুন ডিও লেটার দিয়েছেন।