চট্টগ্রাম নগরের দক্ষিণ আগ্রাবাদ আলহাজ ছাফেয়া খাতুন প্রাথমিক বিদ্যালয়। শনিবার সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত বৃষ্টির মধ্যে টিকাকেন্দ্রটিতে লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন জাহেদুল ইসলাম। ১২টার দিকে টিকা নেই জানিয়ে তাকেসহ অনেককে লাইন থেকে তাড়িয়ে দেন স্থানীয় কয়েক যুবক। তারা নিজেদের স্বেচ্ছাসেবক বলে পরিচয় দেন। একই সময়ে ওই কেন্দ্রে স্থানীয় কাউন্সিলরের বিশেষ টোকেনে টিকা নিয়েছেন অনেকে। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের টিকাকেন্দ্রগুলো থেকে টিকা নিতে না পেরে অধিকাংশ মানুষই নিজেদের মতো ফিরে গেছেন।

সিটি করপোরেশনের ৪১টি ওয়ার্ডের ১২৩টি কেন্দ্রে  শনিবার টিকা দেওয়া হয়েছে। সকালে নগরীর পূর্ব ষোলশহর ওয়ার্ডের রাহাত্তারপুল এলাকায় মজিদিয়া আলিয়া মাদ্রাসা সংলগ্ন কেন্দ্রে টিকাদান কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন সিটি মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী। পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী বয়োজ্যেষ্ঠ, নারী ও প্রতিবন্ধীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে টিকা দেওয়ার কথা থাকলেও তা মানা হয়নি। স্থানীয় কাউন্সিলরদের দেওয়া টোকেন নিয়েই তাদের পছন্দের ব্যক্তিরা টিকা নিতে পেরেছেন। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শেখ জাফরুল হায়দার চৌধুরী সমকালকে বলেছেন, 'যারা লাইনে দাঁড়িয়েছেন তাদের তাৎক্ষণিক টিকার ফরম পূরণ করে টিকা দেওয়া হয়েছে। আগেভাগে কোনো টোকেন দেওয়া হয়নি।'

এ বিষয়ে জানতে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সেলিম আকতার চৌধুরীর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে জেলা সিভিল সার্জন সেখ ফজলে রাব্বি বলেন, 'টিকার জন্য টোকেন দেওয়া-সংক্রান্ত কোনো নির্দেশনা স্বাস্থ্য বিভাগ দেয়নি। সাধারণ মানুষের টিকা না পাওয়া দুঃখজনক ও অমানবিক।'

নগরের হামজারবাগ রহমানিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে বৃদ্ধ মাকে নিয়ে লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন শারমিন ইসলাম। কাউন্সিলরের টোকেন না থাকায় টিকা দিতে না পেরে ফিরে গেছেন তারা। শারমিন সমকালকে বলেন, 'কাউন্সিলরের টোকেনের কথা আগে শুনিনি। জাতীয় পরিচয়পত্র নিয়ে মাকে সঙ্গে করে টিকা দিতে এসেছিলাম। লাইনে দাঁড়ালেও টোকেন না থাকায় কেন্দ্রে ঢুকতে দেয়নি।'

এ প্রসঙ্গে ৭ নম্বর পশ্চিম ষোলশহর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মোবারক আলী বলেন, 'ওয়ার্ডের জনসংখ্যা পাঁচ লাখ। টিকা দেওয়া হয়েছে মাত্র ৯০০ জনকে। মানুষের অতিরিক্ত চাপ নিয়ন্ত্রণে আগের দিন এলাকাভিত্তিক বয়স্ক, নারী ও প্রতিবন্ধীদের অগ্রাধিকার দিয়ে ৬০০টি টোকেন দেওয়া হয়েছে। এর বাইরে করোনাকালে যেসব যুবক আরবান কমিউনিটি ভলান্টিয়ার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, তাদের সুরক্ষার আওতায় আনতে ৬০ জনকে টিকা দেওয়া হয়েছে। বাকি টিকা লাইনে দাঁড়ানো বয়স্কদের দেওয়া হয়েছে। অন্যদের ১৪ তারিখ টিকা দেওয়া হবে জানিয়ে মাইকিং ও ব্যানার টাঙানো হয়েছে।'

নগরের চান্দগাঁও আবাসিক এলাকায় সিডি পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে ভোর ৫টা থেকে টিকার জন্য লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন মানুষ। বৃষ্টির মধ্যে দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়ালেও তাদের ভাগ্যে জোটেনি টিকা। স্থানীয় ৪ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর এসরারুল হক বলেন, 'রেজিস্ট্রেশন করে যারা আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে, তাদের টোকেন দেওয়া হয়েছে। টোকেন যারা পেয়েছে শুধু তাদের টিকা নিতে আসতে বলা হয়েছিল।'