নারায়ণগঞ্জ নগরের মাসদাইরে পাশাপাশি মুসলমানদের কবরস্থান, খ্রিস্টানদের কবরস্থান ও হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের শ্মশান। সম্প্রতি সিটি করপোরেশন কবরস্থানের পশ্চিমপাশে থাকা শ্মশানের পুকুর খনন, ঘাটলা নির্মাণ ও গাইড ওয়াল নির্মাণের জন্য এক কোটি ২০ লাখ টাকার কার্যাদেশ দেয়। পুকুরটিতে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের লাশ পোড়ানো ছাই ফেলা হতো। এই পুকুর খননের উত্তোলিত মাটি ফেলা হয় পাশের কবরস্থানের বিভিন্ন কবরের ওপর। আর এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমান।

সোমবার দুপুরে শামীম ওসমান বাবা-মাসহ স্বজনদের কবর জিয়ারত করতে এসে শ্মশানের পুকুর কেটে তোলা মাটি কবরগুলোর ওপর দেখতে পেয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়েন। এক পর্যায়ে তিনি কাঁদতে শুরু করেন। উপস্থিত সাংবাদিকদের শামীম ওসমান বলেন, 'এ ঘটনার মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করার চেষ্টা হয়েছে। সন্তান হিসেবে আমি ব্যর্থ যে, আমি স্থানীয় সংসদ সদস্য হয়েও বাবা-মায়ের কবরের পবিত্রতা হেফাজত করতে পারিনি। সেসঙ্গে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের কবরকে অবমাননার হাত থেকে রক্ষা করতে পারিনি।'

শামীম ওসমান বলেন, 'আমি সিটি করপোরেশনকে দায়ী করব না। আমি মনে করি এটা কোনো মানুষের কাজ না, এটা ইবলিশের কাজ।' এ সময় কবরগুলো আগের অবস্থায় ফিরিতে আনতে সেখানে দায়িত্বরতদের ৪৮ ঘণ্টা সময় বেঁধে দেন তিনি।

এদিকে এ ঘটনায় শ্মশানের পুকুর সংস্কার কাজের ঠিকাদার মামুন মিয়া, কবরস্থান মসজিদের ইমাম বদর শাহ ও মুয়াজ্জিন জাকারিয়ার কাছ থেকে পাওয়া গেছে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য।

ঠিকাদার মামুন মিয়া বলেন, 'পুকুরের মাটি তোলার পর মসজিদের ইমাম বদর শাহ ও মসজিদ কমিটির সদস্য মো. শামসু আমার কাছ থেকে কবরস্থানের জন্য মাটি চান। আমি তাদের কথামতো মাটিগুলো কবরস্থানের মেইন গেটের বাইরে রাখি। পরে ইমাম ও মসজিদ কমিটির লোকজন শ্রমিক দিয়ে মাটিগুলো কবরস্থানের ভেতরে নেওয়ার ব্যবস্থা করেন।'

ইমাম বদর শাহ বলেন, 'কবরস্থানে শ্মশানের মাটি দেওয়া সমীচীন নয়। এখানে ধর্মীয় বিষয় না, মানবিক দিক থেকেই উচিত নয়। আমি মসজিদে নামাজ পড়াই ও দোয়া করি। এ বিষয়টি আমি দেখভাল করি না।'

মসজিদের মুয়াজ্জিন ও কবরস্থানের দেখভালের দায়িত্বে থাকা মো. জাকারিয়া বলেন, 'ঠিকাদাররা শ্মশান ও কবরস্থানের উন্নয়নকাজ করেছে। যেহেতু কবরস্থান ও শ্মশানের দেখাভাল করে সিটি করপোরেশন, তাই আমরা বাধা দেইনি।'

এ ব্যাপারে মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, 'আমি বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখছি। এরই মধ্যে সিটি করপোরেশনের কয়েকজন কর্মকর্তাকে কেন্দ্রীয় কবরস্থানে পাঠানো হয়েছে।'