দুই দশক আগে কিশোরী বয়সে 'যৌন নির্যাতন' ও 'মারধরের' অভিযোগে ব্রিটিশ রানী এলিজাবেথের দ্বিতীয় ছেলে প্রিন্স অ্যান্ড্রুর বিরুদ্ধে মামলা করেছেন এক নারী। 

যুক্তরাষ্ট্রের ম্যানহাটনের ডিস্ট্রিক্ট আদালতের শরণাপন্ন হওয়া অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বৈত নাগরিক এই নারীর নাম ভার্জিনিয়া জুফ্রি। তিনি অভিযোগ করেন, অ্যান্ড্রুর বন্ধু প্রয়াত মার্কিন ধনকুবের জেফরি এপস্টেইন তাকে 'যৌনকর্মের জন্য' নিজের একটি দ্বীপে আটকে রেখে নির্যাতন করতেন। ১৭ বছর বয়সে এপস্টেইন তাকে প্রিন্স অ্যান্ড্রুর কাছে লন্ডনে নিয়ে যান। পরে ব্রিটিশ মিডিয়া মোগল প্রয়াত রবার্ট ম্যাপওয়েলের মেয়ে গিসলেইন ম্যাপওয়েলের লন্ডনের বাড়িতে জোর করে তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করেন প্রিন্স অ্যান্ড্রু।

জুফ্রি অভিযোগ করেন, এপস্টেইন তাকে যৌনকর্মের জন্য পাচার করেছিলেন এবং তার বয়স যখন ১৬ তখন থেকে শুরু করে ২০০০-০২ সাল পর্যন্ত তার ওপর নির্যাতন চালানো হয়েছে।

মামলায় প্রিন্স অ্যান্ড্রুর বিরুদ্ধে 'মারধর' এবং উদ্দেশ্যমূলকভাবে মানসিক আঘাত করে বিপর্যস্ত করার অভিযোগ এনে ক্ষতিপূরণ দাবি করা হয়েছে। জুফ্রি বলেন, 'ক্ষমতাশালী এবং ধনী হওয়ায় কেউ তার অপকর্মের দায় এড়াতে পারেন না।' 

এ প্রসঙ্গে প্রিন্স অ্যান্ড্রু কিংবা তার আইনজীবীর সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি বলে জানিয়েছে রয়টার্স। ২০১৫ সালেও প্রিন্স অ্যান্ড্রুর বিরুদ্ধে একই অভিযোগ আনা হয়েছিল। পরে এক সাক্ষাৎকারে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে জুফ্রির সঙ্গে কখনও সাক্ষাৎ হয়েছে কিনা তাও মনে নেই বলে দাবি করেছিলেন অ্যান্ড্রু।

প্রিন্স অ্যান্ড্রুর সঙ্গে সম্পর্ক থাকা মার্কিন ধনকুবের জেফরি এপস্টেইনকে কয়েক ডজন নারী ও কিশোরীকে যৌন হয়রানির দায়ে ২০১৯ সালে অভিযুক্ত করেছিলেন ম্যানহাটনের ফেডারেল কৌঁসুলিরা। 

'যৌনদাসী' পাচারে জড়িত থাকার অভিযোগে বিচারের অপেক্ষায় থাকাকালে ২০১৯ সালের ১০ অগাস্ট ৬৬ বছর বয়সে নিউইয়র্কের একটি কারাগারে আত্মহত্যা করেন জেফরি এপস্টেইন। সে সময় এপস্টেইনের বিরুদ্ধে তদন্তে অ্যান্ড্রু কোনো সহযোগিতা করেননি বলে জানান মামলার কৌঁসুলিরা।