নারায়ণগঞ্জের মাসদাইরে কেন্দ্রীয় কবরস্থানে থাকা বেশ কিছু কবরে পাশের শ্মশানের পুকুর থেকে কাটা মাটি দেওয়া নিয়ে বিতর্কের মধ্যে মঙ্গলবার গণমাধ্যমে একটি লিখিত বক্তব্য পাঠিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। তিনি ঘটনার জন্য ওসমান পরিবারের বড় ছেলে প্রয়াত এমপি নাসিম ওসমানের সহধর্মিণী পারভীন ওসমানকে দায়ী করছেন।

সোমবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমান তার বাবা-মাসহ প্রয়াত স্বজনদের কবর জিয়ারতে যান। সেখানে গিয়ে তিনি দেখেন, তার বাবা-মাসহ স্বজনের কবরে পাশের শ্মশানের পুকুর খনন করে তোলা মাটি দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে। এ নিয়ে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং এক পর্যায়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। 

মঙ্গলবার দুপুরেও শামীম ওসমান কবরস্থানে গিয়ে সাংবাদিকদের বলেন, 'যারা এ খেলা খেলছেন কিংবা খেলাচ্ছেন তাদের বলি, মৃত্যুকে ভয় পান। আমি ধৈর্যশীল। কারণ আমি এমন একজন নেত্রীর কর্মী যিনি বিষকে হজম করেন। তার মতো নীলকণ্ঠী নেত্রীর কর্মী হিসেবে আমিও চেষ্টা করছি বিষকে হজম করতে। তাই অনুরোধ করব, অবিলম্বে ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।'

পরে বিকেলে বিকেলে গণমাধ্যমে পাঠানো বক্তব্যে মেয়র আইভী বলেন, 'এ ঘটনার প্রকৃত সত্য হলো নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের স্বজনদের কবরে শ্মশানের মাটি ফেলা হয়নি। প্রয়াত সংসদ সদস্য নাসিম ওসমানের কবর অপেক্ষাকৃত নিচু। সেখানে পানি জমে থাকার আশঙ্কা করে তার স্ত্রী পারভীন ওসমান তাদের পারিবারিক আত্মীয় জনৈক নাসিরকে মাটি ফেলার জন্য পাঠান। নাসির বাইরে থেকে মাটি এনে শামীম ওসমানের ভাই প্রয়াত নাসিম ওসমানসহ স্বজনদের কবর ভরাট করেন। এ কাজে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের নিযুক্ত কেয়ারটেকার সামসুদ্দিন সহযোগিতা করেছে মাত্র।'

তবে মেয়রের এ বক্তব্য মিথ্যা উল্লেখ করে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন পারভীন ওসমান। মোবাইল ফোনে সমকালকে তিনি বলেন, 'মেয়রের দাবি আদৌ সত্য নয়। শ্মশানের পুকুর কেটে তোলা মাটি তিনি তার স্বামীসহ স্বজনদের কবরে দিতে কাউকে বলেননি। তা ছাড়া এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে, তিনি তা জানতেনই না। আর শ্মশানের মাটি স্বামীর কবরে দিতে বলার প্রশ্নই ওঠে না। মেয়র আমার নাম ব্যবহার করে মিথ্যাচার করছেন।'