প্রায় ৪০০ বছর পেরিয়ে গেলেও কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে সেকান্দরনগর সাহেব বাড়ি জামে মসজিদ। কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলার ধলা ইউনিয়নের সেকান্দরনগর গ্রামে নির্মিত এ মসজিদ মোগল আমলের স্থাপত্যের এক অনন্য নিদর্শন।
বেশ বড় প্রাঙ্গণে নির্মিত হলেও এ মসজিদের মূল অংশ ছোট। মসজিদের মোট আটটি মিনারই উঠে গেছে ছাদের ওপর। মসজিদের প্রবেশপথগুলোর সবই উত্তর-দক্ষিণের দেয়ালে। এ মসজিদের প্রত্নতাত্ত্বিক ও নান্দনিক তাৎপর্য অপরিসীম। তাই এটির সংস্কার এবং রক্ষণাবেক্ষণও একান্ত প্রয়োজন। স্থানীয় বাসিন্দা ও মসজিদটি দেখতে আসা পর্যটকদের আশঙ্কা, সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ করা না হলে এটির অস্তিত্বই হুমকির মুখে পড়বে।
দূর অতীতে এই অঞ্চলে ইসলাম প্রচারের উদ্দেশ্যে এসেছিলেন সৈয়দ শাহ জামান (রহ.) এবং তারই সমসাময়িক হজরত শাহ সেকান্দর (রহ.)। হজরত শাহ সেকান্দর এই স্থানে বসতি স্থাপনের পর এলাকাটি 'সেকান্দরনগর' নামে পরিচিতি পায়। স্থানীয়দের ধারণা, তার অবস্থানকে কেন্দ্র করে মসজিদটি নির্মাণ করা হয়েছিল। তার মাজারও রয়েছে এ মসজিদের পাশে।
সূত্রমতে, প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের একজন কর্মকর্তা এই জামে মসজিদ পরিদর্শন করেছেন। ছবি, মৌজা ম্যাপসহ এই মসজিদকে যাতে অধিদপ্তরের অধীনে নেওয়া হয়, সে লক্ষ্যে একটি প্রতিবেদনও জমা দিয়েছেন অধিদপ্তরে। পরে এ প্রতিবেদন সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়েও পাঠানো হয়। কিন্তু তার পরও মসজিদটির সংস্কার এবং রক্ষণাবেক্ষণে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
১৯৯৮ সালের ১২ আগস্ট কিশোরগঞ্জের তৎকালীন জেলা প্রশাসক এএমএম ফরহাদ সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তখনকার সচিব ড. এস জামান মজুমদার বরাবর একটি ডিও লেটার (ডিও নম্বর জে:প্র:কি: ৬৭-৬০৭) পাঠান। এ চিঠিতে সেকান্দরনগর সাহেব বাড়ি জামে মসজিদকে প্রত্নসম্পদের স্বীকৃতি দিয়ে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের অধীনে নিয়ে রক্ষণাবেক্ষণের উদ্দেশ্যে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়। এ চিঠির অনুলিপি তখন প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছেও দেওয়া হয়েছিল।
সেকান্দরনগর গ্রামের বাসিন্দা তাড়াইল প্রেস ক্লাবের সভাপতি দেওয়ান ফারুক দাদ খান সমকালকে বলেন, প্রায় ৪০০ বছর আগের পুরাকীর্তি হিসেবে পরিচিত এ মসজিদ দেখতে প্রায়ই অনেক মানুষ এখানে আসেন।
মসজিদের ইমাম মাওলানা সৈয়দ আবু সায়েম জানান, মোগল আমলে নির্মিত ঐতিহাসিক সেকান্দরনগর সাহেব বাড়ি জামে মসজিদ কালের সাক্ষী। এটির পবিত্রতা রক্ষার্থে সীমানাপ্রাচীর করা খুবই দরকার।
মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি সৈয়দ বশির আহমেদ বলেন, 'মসজিদ সংলগ্ন গভীর পুকুরটির পাড় যেভাবে ভেঙে আসছে, তাতে মসজিদটি হুমকির মুখে। পুকুর ঘেঁষে একটি প্রতিরক্ষা দেয়াল দেওয়া খূবই জরুরি।'
তাড়াইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. তারেক মাহমুদ বলেন, প্রাচীন এ মসজিদসহ জেলার বিভিন্ন পুরাকীর্তি রক্ষায় প্রশাসন সব সময়ই আন্তরিক।
উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. জহিরুল ইসলাম ভুঞা শাহিন জানান, সেকান্দরনগর সাহেব বাড়ি জামে মসজিদের নির্মাণশৈলী ও স্থাপত্যে দৃষ্টিনন্দন কারুকাজের নিদর্শন রয়েছে। এগুলোর তদারকিতে এলাকাবাসীর সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।