কক্সবাজারে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন দেওয়া শুরু হয়েছে মঙ্গলবার। প্রথম দিনে ৫৫ বছরের বেশি বয়সের ৬ হাজার ৯০১ জন রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ এই টিকা পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন সরকারি কর্মকর্তারা। এর মধ্যে টেকনাফে ১ হাজার ১২৫ জন এবং উখিয়া ক্যাম্পে ৫ হাজার ৭৭৬ জন। উখিয়া ও টেকনাফ উপজেলার ৩৪টি ক্যাম্পের ৫৬ কেন্দ্রে স্বাস্থ্যবিধি মেনে টিকার প্রথম ডোজ নিয়েছেন তারা। প্রথম পর্যায়ে ৪৮ হাজার রোহিঙ্গাকে টিকা দেওয়ার কথা রয়েছে।

মঙ্গলবার রাত পৌনে ১১ টায় এসব তথ্য নিশ্চিত করে কক্সবাজার শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) কার্যালয়ের প্রধান স্বাস্থ্য সমন্বয়কারী ডা. আবু তোহা এম আর এইচ ভূঁইয়া জানান, ‘প্রথমদিনে কক্সবাজারের আশ্রিত ৬ হাজার ৯০১ জন রোহিঙ্গা নারী-পুরুষকে টিকা প্রদান করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল থেকে ৫৫ বছরের বেশি বয়সী রোহিঙ্গাদের এই টিকাদান শুরু হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে ৪৮ হাজার রোহিঙ্গাকে টিকা দেওয়ার কথা রয়েছে।’

এর আগে মঙ্গলবার সকালে উখিয়া কুতুপালংয়ের রোহিঙ্গা ক্যাম্প এক্সটেনশন-৪ এ আনুষ্ঠানিকভাবে এ কার্যক্রম উদ্বোধন করনে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (অতিরিক্ত সচিব) শাহ রেজওয়ান হায়াত। এ সময় উপস্থিত ছিলেন কক্সবাজারের সিভিল সার্জন ডা. মাহবুবুর রহমান, ১৪ এপিবিএন অধিনায়ক (এসপি) মো. নাইমুল হক, আরআরআরসি অফিসের স্বাস্থ্য সমন্বয়কারী ডা. তোহা ভূঁইয়া প্রমুখ। উখিয়া-টেকনাফে ৩৪টি ক্যাম্পের ৫৬ কেন্দ্রে স্বাস্থ্যবিধি রোহিঙ্গাদের ‘ফ্যামিলি কাউন্টিং নাম্বার’ বা পরিবার পরিচিতি নম্বর রয়েছে সেগুলোর মাধ্যমে তাদের টিকা দেওয়া হচ্ছে। তবে তার আগের দিন তাদের ব্লকে টিকাদান কার্ড পৌঁছে দেন এনজিও কর্মীরা।

সরেজমিনে টেকনাফের নয়াপাড়া নিবন্ধিত ক্যাম্প, শালবন, জাদিমুরা ও লেদা রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ১০টি কেন্দ্রে নারী-পুরুষদের জন্য আলাদা বুথে টিকা দেওয়া হচ্ছে। এতে স্বাস্থ্য বিভাগসহ দাতা সংস্থার লোকজন সহায়তা দিচ্ছেন। রোহিঙ্গাদের স্বতঃস্ফূর্তভাবে টিকাদানে কেন্দ্র হাজির হতে দেখা গেছে। নারী-পুরুষদের জন্য আলাদা বুথে টিকা দেওয়া হচ্ছে। এ কাজে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের (আরআরআরসি) প্রতিনিধি ও স্বাস্থ্য বিভাগকে সহায়তা করেছে দাতা সংস্থাগুলো। পাশাপাশি বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে পুলিশ সদস্যরাও সক্রিয় ছিল।

এ বিষয়ে অতিরিক্ত শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) সামছু-দৌজা নয়ন জানান, ‘সম্পূর্ণ সরকারি উদ্যোগে প্রত্যেক ক্যাম্পে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত টিকা দেওয়া হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে ৫৫ বছরের ঊর্ধ্বে ৪৮ হাজার রোহিঙ্গাদের টিকা দেওয়া হচ্ছে। প্রথমদিনে প্রায় ৭ হাজার রোহিঙ্গাকে টিকা দেয়া হয়েছে।’