৫ মাসের শিশুপুত্রকে ছুরি দিয়ে হত্যা এবং স্ত্রীকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে।

বৃহম্পতিবার রাত ১০টার দিকে ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলার চন্দনীআটা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

অভিযুক্ত শাহজাহান মিয়া মুক্তাগাছার দাওগাঁও ইউনিয়নের চন্দনীআটা গ্রামের মৃত তমেজ আলীর ছেলে।

পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনার সময় ওই ব্যক্তি আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন। অভিযুক্ত শাহজাহানকে থানা পুলিশ আটক করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেছে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে মানসিক রোগে আক্রান্ত।

থানা পুলিশ ও নিহতের পরিবারের সদস্যরা জানান, বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে শাজাহান মিয়া অস্বাভাবিক আচরণ করতে থাকেন পরিবারের সদস্যদের সাথে। তাকে কেউ মেরে ফেলবে, এ ধরনের কথা বলে তার মা, স্ত্রী, ৫ মাসের শিশুপুত্র শরীফ, ভাগিনা, শালিকাসহ পরিবারের সবাইকে ঘরের দরজা বন্ধ করতে বলেন।

তারা জানান, শাজাহান একটি ধারালো ছুরি হাতে নিয়ে ঘরের ভেতরে বসে থাকেন এবং কাউকে ঘর থেকে বের হতে দেননি। এ অবস্থায় রাত ১০টার দিকে তার স্ত্রীর কাছ থেকে ৫ মাসের শিশুপুত্র শরীফকে কেড়ে নেন শাহজাহান। পরে হাতে থাকা ছুরি দিয়ে  শিশু সন্তানের গলায় আঘাত করলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। এ সময় স্ত্রী জেসমিন বেগম এগিয়ে গেলে তাকেও ছুরিকাঘাত করা হয়। এর পর শাহজাহান মিয়া নিজেও তার গলায় ছুরি আঘাত করে আত্মহত্যার চেষ্টা চালান। গুরুতর আহত অবস্থায় জেসমিন বেগমকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।  

শাহজাহানের মা জমিলা বেগম সাংবাদিকদের বলেন, ঈদের পর থেকে তার ছেলে অস্বাভাবিক আচরণ করে আসছিল। সে বিভিন্ন সময় বলতো কেউ তাকে মেরে ফেলবে। তার বাবার মৃত্যুর পর থেকে তার এমন অস্বাভাবিক আচরণ অরো বেড়ে যায়। ঘটনার দিনও সে অস্বাভাবিক আচরণ করে। তাদের কোনো কথাই মানতে চায়নি। 

ঘটনার সত্যতা নিশ্চত করে মুক্তাগাছা থানার ওসি মাহমুদুল হাসান বলেন, শিশু পুত্রের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। আর তার বারা ঘাতক শাহজাহানকে পুলিশ হেফাজতে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

তিনি আরো জানান, শাহজাহান মাঝেমধ্যে পরিবারের সদস্যদের সাথে অস্বাভাবিক আচরণ করতো। এ থেকেই এ ঘটনার সম্ভাবনা রয়েছে।