স্বাধীন বাংলাদেশের মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৬তম শাহাদাতবার্ষিকীতে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে জাতীয় শোক দিবসের শ্রদ্ধা নিবেদন করেছে সর্বস্তরের মানুষ। 

শতাব্দীর মহানায়কের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে টুঙ্গিপাড়ায় মানুষের ঢল নামে। ফুলে ফুলে ছেয়ে যায় সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ এ বাঙালির সমাধি। 

রোববার সকাল ১০টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে তার সামরিক সচিব মেজর জেনারেল নকিব আহমদ চৌধুরী জাতির পিতার সমাধি সৌধের বেদিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এ সময় তিন বাহিনীর পক্ষ থেকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। বিউগলে বেজে ওঠে করুণ সুর। পরে পবিত্র ফাতেহা পাঠ ও দোয়া-মোনাজাতে অংশ নেন তিনি। 

এ সময় বঙ্গবন্ধু, বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিবসহ ৭৫-এর ১৫ আগস্টের শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনা করা হয়। দোয়া-মোনাজাত পরিচালনা করেন বঙ্গবন্ধু সমাধি সৌধ কমপ্লেপ জামে মসজিদের পেশ ইমাম মাওলানা নওয়াব আলী।

প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর বঙ্গবন্ধুর সমাধি সৌধে শোকার্ত মানুষের ঢল নামে। তারা শোকের চিহ্ন কলোব্যাজ বুকে ধারণ করে পুষ্পস্তবক, ফুলের তোড়া ও ফুল নিয়ে সমাধিসৌধ কমপ্লেক্সে আসেন। ৭৫-এর ১৫ আগস্টের কথা স্মরণ করে তারা বঙ্গবন্ধুর জন্য কাঁদেন। 

দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত আওয়ামী লীগ, সহযোগী, ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন, শ্রমজীবী, পেশাজীবী, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনের হাজার হাজার নেতাকর্মী শোকার্ত পরিবেশে বঙ্গবন্ধুর প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানান। দিনব্যাপী চলে এ শ্রদ্ধা নিবেদন।

শোকাবহ এ অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন, প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, আওয়ামী লীগের সভাপতিণ্ডলীর সদস্য লে. কর্নেল (অব.) মুহাম্মদ ফারুক খান, জাহাঙ্গীর কবির নানক, শাজাহান খান, মাহবুব-উল-আলম হানিফ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেন, অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন, কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য শাহাবুদ্দিন ফরাজী, আনিসুর রহমান, ইকবাল হোসেন অপু এমপি, আব্দুল আওয়াল শামীম, গোপালগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি চৌধুরী এমদাদুল হক, সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব আলী খান, টুঙ্গিপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ আবুল বশার খায়ের, সাবেক সভাপতি ইলিয়াস হোসেন, সাধারণ সম্পাদক বাবুল শেখ, আয়নাল হোসেন শেখ, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান শেখ লুৎফার রহমান বাচ্চু, সোলায়মান বিশ্বাস, বিএম তৌফিকসহ সংসদ সদস্য, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ, পদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

পরে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ, বেজার নির্বাহী পরিচালক শেখ ইউসুফ হারুন, ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার খলিলুর রহমান, জেলা প্রশাসক শাহিদা সুলতানা, পুলিশ সুপার আয়েশা সিদ্দিকা, জেলা আওয়ামী লীগ, টুঙ্গিপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের পক্ষ থেকে বঙ্গবন্ধুর সমাধি সৌধের বেদিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়।

এছাড়া কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, কৃষক লীগ, যুবলীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ, যুব মহিলা লীগ, গোপালগঞ্জ জেলা মহিলা আওয়ামী লীগ, কোটালীপাড়া পৌরসভা, টুঙ্গিপাড়া পৌরসভা, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, গোপালগঞ্জ বঙ্গবন্ধু বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকাস্থ গোপালগঞ্জ জেলা সমিতি, বাংলাদেশ ডিপ্লোমা মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন, গোপালগঞ্জ চেম্বার, সোনালী ব্যাংক, কৃষি ব্যাংক, রূপালী ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, জনতা ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, মিল্ক্ক ভিটা, শেখ সাহেরা খাতুন মেডিকেল কলেজ, শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিব চক্ষু হাসপাতাল, এ্যাসেনশিয়াল ড্রাগস, শেখ লুৎফর রহমান ডেন্টাল কলেজ, শেখ রেহানা টেপটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ, বঙ্গবন্ধু দারিদ্র্য বিমোচন ও পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (বাপার্ড), পরিবেশ অধিদপ্তর, ক্যাম্পাস থিয়েটার আন্দোলন, বিএনসিসি, স্কাউট, ডিবি ক্লিনসহ বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষে বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়।

মসজিদ-মন্দির-গির্জায় দোয়া ও প্রার্থনা

বঙ্গবন্ধুর শাহাদাতবার্ষিকীতে গোপালগঞ্জ, টুঙ্গিপাড়া, কোটালীপাড়া, মুকসুদপুর ও কাশিয়ানী উপজেলার মসজিদে মসজিদে দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।  এছাড়া গোপালগঞ্জ কেন্দ্রীয় সার্বজনীন কালীবাড়ি, লেকপাড় লোকনাথ মন্দিরসহ জেলার সব মন্দির ও গির্জায় বঙ্গবন্ধুর আত্মার শান্তি কামনায় বিশেষ প্রার্থনা হয়।

গরিব মানুষের মধ্যে খাবার বিতরণ 

টুঙ্গিপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বাবুল শেখের উদ্যোগে উপজেলার ৫৪টি পয়েন্টসহ মসজিদ, মাদ্রাসা, এতিমখানায় খাবার বিতরণ করা হয়। এছাড়া গোপালগঞ্জ জেলার ৬৮টি ইউনিয়নের প্রতিটি ওয়ার্ডে, বিভিন্ন গ্রামে গরিব মানুষের মধ্যে খাবার বিতরণ করা হয়। গোপালগঞ্জ, মুকসুদপুর, কোটালীপাড়া পৌর এলাকায় বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন, বণিক সমিতি, ব্যবসায়ী সমিতির উদ্যোগে খাবার বিতরণ করা হয়। এদিকে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী গোপালগঞ্জে তিনশ মানুষকে মানবিক খাদ্য সহায়তা দিয়েছে।

টুঙ্গিপাড়া ও কোটালীপাড়ায় চট্টগ্রামের মেজবান 

টুঙ্গিাপাড়ায় ৫৪টি ও কোটালীপাড়ার ১০৮টি ওয়ার্ডে চট্টগ্রামের মেজবান অনুষ্ঠিত হয়েছে। 

শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের পিতা এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী ২৬ বছর আগে জাতীয় শোক দিবসে মেজবানের প্রচলন করেন। তার মৃত্যুর পর তার ছেলে ও স্ত্রী হাসিনা মহিউদ্দিন এ আয়োজন অব্যাহত রেখেছেন। 

আগে টুঙ্গিপাড়া সরকারি শেখ মুজিব কলেজ ও বালাডাঙ্গা স্কুলে এ আয়োজন হতো। করোনার কারণে এ বছর ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে মেজবানের আয়োজন করা হয়।

গাছের চারা বিতরণ 

কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগিতায় গোপালগঞ্জ সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন শহরের সরকারি বঙ্গবন্ধু কলেজে ২৫০টি ফলদ বৃক্ষসহ জেলায় এক হাজার গাছের চারা বিতরণ করে।