পদ্মার পানি বৃদ্ধি ও তীব্র স্রোতে ভাঙনের হুমকিতে রয়েছে দৌলতদিয়া লঞ্চঘাট। এ বছর ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দৌলতদিয়া ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের মজিদ শেখের পাড়াসহ লঞ্চঘাট এলাকার অনেক স্থাপনা। সেখান থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে লঞ্চঘাটের একটি পন্টুনসহ শতাধিক বাড়িঘর।

বুধবার সকাল থেকে লঞ্চঘাট এলাকায় আবারও থেমে থেমে চলছে ভাঙন। ভোর থেকে ভাঙনে প্রায় ৫০ মিটার অংশ জিও ব্যাগসহ নদীতে বিলীন হয়েছে। এ ছাড়া ভাঙন ঝুঁকিতে থাকায় বেশকিছু বাড়িঘর সরিয়ে নিতে শুরু করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। হুমকিতে রয়েছে দৌলতদিয়া প্রান্তের লঞ্চঘাট, শতাধিক বাড়িঘরসহ অনেক স্থাপনা। গত কয়েকদিনের ভাঙনে প্রথম দফায় ১০টি বসতবাড়িসহ প্রায় ২৫০ মিটার এলাকা নদীতে বিলীন হয়ে যায়। যে কোনো সময় লঞ্চঘাটটিও বন্ধ করে দিতে পারে কর্তৃপক্ষ।

স্থানীয়রা জানান, মঙ্গলবার গভীর রাত থেকে দৌলতদিয়া লঞ্চঘাট এলাকায় ভাঙন শুরু হয়। ভেসে যায় স্থাপন করা অসংখ্য জিও ব্যাগ। এর আগে পানি উন্নয়ন বোর্ড জিও ব্যাগ দিয়ে ভাঙন রক্ষার চেষ্টা করলেও সেগুলো তেমন কাজে আসেনি।

দৌলতদিয়া লঞ্চঘাটে বিআইডব্লিউটিএর দায়িত্বরত এক কর্মকর্তা বলেন, লঞ্চঘাটটি প্রচণ্ড হুমকির মধ্যে রয়েছে। এভাবে নদী ভাঙতে থাকলে যে কোনো সময় লঞ্চঘাট বন্ধ হয়ে যেতে পারে। বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যান লঞ্চঘাট এলাকা পরিদর্শনে এসেছিলেন। আসলে এখানে লঞ্চঘাট স্থাপন করার মতো কোনো জায়গা না থাকায় ঝুঁকির মধ্যে লঞ্চঘাট দিয়ে যাত্রী পারাপার করা হচ্ছে।

দৌলতদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ২নং ওয়ার্ডের সদস্য মো. আশরাফুল ইসলাম বলেন, ভাঙন দ্রুত রোধ করা না গেলে যে কোনো সময় নদীতে বিলীন হতে পারে লঞ্চঘাট।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুল আহাদ বলেন, ঘটনাস্থলের ভাঙন পরিস্থিতি দেখে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।