চন্দ্রিমা উদ্যানে জিয়াউর রহমানের কবর নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন,  আওয়ামী লীগ কতটা ‘প্রতিহিংসাপরায়ণ’ তা এই বক্তব্য থেকেই ‘প্রমাণিত’।

বৃহস্পতিবার বিএনপির উদ্যোগে ২১ আগষ্টের চক্রান্তমূলক গ্রেনেড হামলা’ শীর্ষক ‘ইতিহাস কথা কয়’ ব্যানারে আয়োজিত ভার্চুয়াল আলোচনা সভায় তিনি এ প্রতিক্রিয়া জানান। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘আওয়ামী লীগের সভানেত্রী আবারও জিয়াউর রহমান বীর উত্তমের বিরুদ্ধে বিষেদাগার করেছেন। তিনি তার কবর সম্পর্কে কথা বলেছেন, তার একাত্তর সালের যুদ্ধের ভূমিকা নিয়েও কথা বলেছেন। এটা একটা হাস্যকর বক্তব্য। এই বক্তব্যগুলো থেকে প্রমাণিত হয় যে, আওয়ামী লীগ সরকার কতটা প্রতিহিংসাপরায়ণ।’

মুক্তিযুদ্ধে জিয়াউর রহমানের অংশগ্রহণ ও তার অবদান নিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘আজকে এটা ঐতিহাসিকভাবে সত্য, দিবালোকের মতো সত্য যে, জিয়াউর রহমান তিনি রণাঙ্গনের থেকেই যুদ্ধ করেছেন, রণাঙ্গনে থেকেই যুদ্ধ পরিচালনা করেছেন। এটা দিবালোকের মতো সত্য যে, জিয়াউর রহমান যেদিন মৃত্যুবরণ করে সেদিন এদেশের লক্ষলক্ষ মানুষ তার জন্য কেঁদেছিল। মানিক মিয়া এভিনিউতে লক্ষ লক্ষ মানুষের অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে।  তিনি যে কত জনপ্রিয় নেতা ছিলেন সেটা প্রমাণিত হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সংবিধান লঙ্ঘন করেছে, আওয়ামী লীগ সবচেয়ে বড় রাষ্ট্রদ্রোহিতার কাজ করেছে। তারা গণতন্ত্র হত্যা করেছে, ভোটের অধিকার লুট করেছে, বাংলাদেশকে একটা তাবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করেছে। জনগণের সমস্ত অধিকার ছিনিয়ে নিয়েছে। আওয়ামী লীগ বেশিদিন ক্ষমতায় থাকলে বাংলাদেশি যে জাতীয়তাবাদ, বাংলাদেশে যে জাতি তার অস্তিত্ব রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে।’

২০০৪ সালে ২১ আগস্টের ঘটনা প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুলের দাবি, ওই ঘটনা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক চক্রান্তের প্রথম সোপান ছিল। 

তিনি বলেন, ‘ তা ছিল একটি সুদুরপ্রসারী চক্রান্ত যা বাংলাদেশকে আবার গণতন্ত্রহীন করার জন্য, বাংলাদেশের মানুষের স্বপ্নগুলোকে ভেঙে চুরমার করে দেওয়ার জন্য, বাংলাদেশ যে একটি সত্যিকার অর্থে সুখী-সমৃদ্ধ রাষ্ট্র নির্মিত হবে সেই স্বপ্নকে পুরোপুরি ভেঙে দেয়ার জন্য ২১ আগস্ট।’ 

বিএনপি মহাসচিবের সভাপতিত্বে ও প্রচার সম্পাদক শহিদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানীর সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, ভাইস চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন, আইন বিষয়ক সম্পাদক কায়সার কামাল, মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক আসাদুজ্জামান বক্তব্য রাখেন।