শেরপুরের শ্রীবরদীতে ক্ষতিগ্রস্থ পাঁচটি আদিবাসী পরিবারকে যথাযথ ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। আদিবাসীদের জুমের ফসল কাটার সঙ্গে যুক্ত বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তাসহ সকলকে অপসারণ সহ যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে। বিভিন্ন প্রকল্পসহ পর্যটন কেন্দ্র এবং সামাজিক বনায়নের নামে আদিবাসীদের উচ্ছেদ ষড়যন্ত্র বন্ধ করতে হবে। সেই সঙ্গে সমতল আদিবাসীদের জন্য গঠন করতে হবে পৃথক স্বাধীন ভূমি কমিশন।

শেরপুরের শ্রীবরদীতে বন বিভাগ কর্তৃপক্ষের আদিবাসীদের জুমের ফসল কেটে ফেলার প্রতিবাদে ও যথাযথ ক্ষতিপূরণের দাবিতে বাংলাদেশ গারো ছাত্র সংগঠনের (বাগাছাস) নালিতাবাড়ী থানা শাখার এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি করা হয়। বৃহস্পতিবার দুপুরে নালিতাবাড়ী উপজেলার ওয়ার্ল্ড ভিশনের পুরাতন সাব সেন্টারে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

বাগাছাসের নালিতাবাড়ী থানা শাখার সভাপতি সোহেল রেমার সভাপতিত্বে ও সংগঠনের সাধারন সম্পাদক বাঁধন চাম্বুগং এর সঞ্চালনায় লিখিত বক্তব্য পেশ করেন কেন্দ্রীয় সংসদের সাধারন সম্পাদক অলিক মৃ। এতে আরও উপস্থিত ছিলেন নালিতাবাড়ী শাখার সহসভাপতি রাসেল নেংমিনজা, শিক্ষা ও সাহিত্য বিষয়ক সম্পাদক সঞ্জিতা চিছাম, শ্রীবরদী শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক কাঞ্চন ম্রং, ঝিনাইগাতী শাখার সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক শান্ত চিরানসহ অন্য নেতৃবৃন্দরা।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, যুগ যুগ ধরে বসবাস করে আসা গারো আদিবাসীদের উপর এই বর্বর হামলা নতুন কিছু নয়। অনেক বছর ধরেই ভূমি সংক্রান্ত সমস্যায় জর্জরিত এই এলাকায় বসবাস করা গারো আদিবাসীসহ অন্যান্য আদিবাসী জনগোষ্ঠী।

সম্মেলনে আরও বলা হয়, আদিবাসীরা বন তৈরি করে। সেই বন কেটে ফেলে একদল ভূমি ও বনদস্যুরা। গত ১২ আগস্ট আদিবাসীদের জুমের ফসল ও বাগান কেটে ফেলার ঘটনা এরই একটি জলজ্যান্ত প্রমাণ।

বাগাছাসের কেন্দ্রীয় সংসদের সাধারন সম্পাদক অলিক মৃ বলেন, আমাদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। এসব ঘটনার প্রতিকার না হওয়ায় আদিবাসীরা উচ্ছেদ আতঙ্কে রয়েছেন। এ ঘটনায় কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার এবং ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারদের যথাযথ ক্ষতিপূরণসহ এই কাজে যুক্ত বন কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে অপসারণ করতে হবে এবং শাস্তি দিতে হবে। 

গত ১২ আগস্ট শ্রীবরদীতে বালিজুরি খ্রিষ্টান পাড়ায় বন বিভাগ পাঁচটি গারো আদিবাসী পরিবারের জুমের ফসল ও বাগান কেটে ফেলে। এর প্রতিবাদে এবং যথাযথ ক্ষতিপূরণের দাবিতে বাগাছাস নালিতাবাড়ী থানা শাখা এক বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দেয়। তবে জেলা প্রশাসকের আশ্বাসে বিক্ষোভ সমাবেশ স্থগিত করে এক সংবাদ সম্মেলনে চারদফা দাবি উত্থাপন করে সংগঠনটি।