কুমিল্লা নগরীর বজ্রপুর এলাকায় মাদক ব্যবসায়ীর ছুরিকাঘাতে মিথুন ভূঁইয়া (২২) নামের এক কলেজছাত্র মারা গেছেন। শুক্রবার সকালে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় দুপুরে পুলিশ হামলায় অভিযুক্ত মিরাজ ও তার সহযোগী শরিফুল ইসলাম রাসেলকে গ্রেপ্তার করেছে।

এর আগে গত বুধবার রাতে মিথুনকে ছুরিকাঘাত করা হয়েছিল। তিনি নগরীর ১৫ নং ওয়ার্ডের বজ্রপুর (মৌলভীপাড়া) চেয়ারম্যান গলির লিটন মিয়ার ছেলে। কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের স্নাতক শ্রেণির ছাত্র ছিলেন। হামলায় অভিযুক্ত মিরাজ একই এলাকার রহিম মিয়ার ছেলে।

নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, কলেজছাত্র মিথুন লেখাপড়ার পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন জাগ্রত মানবিকতার কর্মী ছিলেন। এলাকায় ইয়াবা ব্যবসা নিয়ে সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ী মিরাজ এবং তার সহযোগীদের সঙ্গে মিথুনের বিরোধ চলছিল। এলাকায় মাদক ব্যবসা না করতে মিরাজকে একাধিকবার বাধা দেন তিনি। এ নিয়ে একাধিকবার তাকে হত্যার হুমকি দেয় মিরাজ ও তার সহযোগীরা। সেই বিরোধের জের ধরে গত বুধবার রাতে এলাকার চেয়ারম্যান গলির সামনে মিথুনকে ঘিরে ধরেন তারা। একপর্যায়ে তার বুকে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায় মিরাজ। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং পরে অবস্থার অবনতি ঘটায় ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তির পর শুক্রবার ভোরে মারা যান।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, ছিচকে সন্ত্রাসী থেকে মিরাজ এখন ইয়াবা ব্যবসায়ী। এলাকায় তার অনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করায় ইতোপূর্বে অনেকেই হামলার শিকার হয়েছেন। তার নেতৃত্বে এলাকায় কিশোর বয়সের একটি সন্ত্রাসী গ্রুপ রয়েছে।

শুক্রবার বিকেলে কোতয়ালী মডেল থানার ওসি আনোয়ারুল আজিম বলেন, মিরাজের বাড়ি থেকে একটি ছোরা উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়াও নগরীর প্রফেসর পাড়া থেকে এ হত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে দুজনকে। ওসি আরও জানান, মাদক ব্যবসার বিরোধ নাকি অন্য কোনো কারণে এ হত্যাকাণ্ড তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ ঘটনায় মিরাজের অপর সহযোগীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে অভিযান চালাচ্ছে।