ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলায় লইসকা বিলে বালুবোঝাই ট্রলারের ধাক্কায় যাত্রীবাহী একটি ট্রলারডুবির ঘটনায় একের পর এক মরদেহ উদ্ধার করা হচ্ছে। প্রথমে চারজন, এরপর ১০ জন; এ খবর লেখা পর্যন্ত ২০ জনে গিয়ে দাঁড়িয়েছে মৃত্যু। আশঙ্কা করা হচ্ছে, আরও মরদেহ উদ্ধার করা হতে পারে।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ডুবুরি দল ও স্থানীয়রা উদ্ধার তৎপরতা চালাচ্ছেন। উদ্ধার কর্মীরা একের পর এক মরদেহ নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতাল মর্গে আসছেন।

আহত ও নিহতদের স্বজনদের খোঁজ নিতে ভিড় করছেন হাসপাতালে। এ পর্যন্ত আটজনের মরদেহ হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছে। আহত ছয় যাত্রীকে উদ্ধার করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

এদিকে একটি মরদেহ পরিবারের লোকজন জোর করে হাসপাতাল থেকে নিয়ে যায়। এ সময় পুলিশের সঙ্গে নিহতের স্বজনদের ধস্তাধস্তিও হয়।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করে বলা হচ্ছে, কোনো রকম বিশৃঙ্খল পরিবেশ যাতে সৃষ্টি না হয়। এছাড়া নিহতদের পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ হস্তান্তর করা হবে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আবু সাঈদ শামীম বলেন, হাসপাতালের পরিবেশ শান্ত রাখতে আমরা চেষ্টা করছি। মরদেহগুলো শনাক্তে স্বজনদের খোঁজ করা হচ্ছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক হায়াত-উদ-দৌলা খাঁন ঘটনাস্থল থেকে সাংবাদিকদের বলেন, নিহত ব্যক্তিদের পরিবারগুলোকে ২০ হাজার করে টাকা দেওয়া হবে। একইসঙ্গে নৌ দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান করতে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে বিজয়নগর উপজেলার চম্পকনগর ঘাট থেকে শতাধিক যাত্রী নিয়ে ট্রলারটি সদর উপজেলার আনন্দবাজার ঘাটের উদ্দেশে রওনা হয়েছিল। এরমধ্যে বিকেল সোয়া ৫টার লইসকা বিল এলাকায় বিপরীত দিকে থেকে আসা একটি বালুবোঝাই ট্রলারের সঙ্গে ধাক্কা লাগে। এতে ট্রলারটি ডুবে যায়।

আরও পড়ুন>> ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নৌকা ডুবে ২০ জনের মৃত্যু