গৃহবধূ আখিঁর স্বামী সদর উপজেলার সাদেকপুর গ্রামের মুরাদ মিয়াসহ তার শাশুড়ি, দুই সন্তান তানভীর (৮) ও মোবাশ্বিরা (২), ভাসুরের তিন সন্তান নিয়ে বিজয়নগর উপজেলার চম্পকনগর স্বামীর বোনের বাড়িতে গিয়েছিলেন বিয়ের অনুষ্ঠানে অংশ নিতে। বিয়ে বাড়ির আনন্দ অবশেষে পরিণত হলো বিষাদে। আখিঁর আহাজারিতে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে।

আখিঁ হাসপাতালে আহাজারি করতে করতে জানান, তারা চম্পকনগরে ননাসের (স্বামীর বড় বোন) বাড়িতে বিয়ে খেতে গেছিলেন। বিয়ে বাড়ির আনন্দশেষে শুক্রবার বিকেল ৪টার দিকে চম্পকনগর নৌকা ঘাট থেকে শতাধিক যাত্রীর সঙ্গে তারাও নৌকায় ওঠেন। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি জানান, নৌকাটি লইসকা বিল অতিক্রম করার সময় হঠ্যাৎ করে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি বালিবোঝাই ট্রলার তাদের নৌকাটিকে ধাক্কা দিলে নিমিষেই তলিয়ে যায় নৌকা।

আখিঁ আরও জানান, তার দুই সন্তানকে দুই হাতে নিয়ে সাঁতার দিতে চেষ্টা করেন। সাঁতারের এক পর্যায়ে তার হাত থেকে ছেলে তানভীর ছুটে যায়। তিনি কোনোক্রমে মেয়ে মোবাশ্বেরাকে নিয়ে প্রাণে বাচঁলেও নৌকাডুবিতে তিনি তার স্বামী মুরাদ, শাশুড়ি, ভাসুরের তিন সন্তানকে হারান। স্বামী শাশুড়িসহ তার পরিবারের ৫ জনকে হারিয়ে প্রায় পাগলপ্রায় তিনি।

এ দিকে নৌকা ডুবির এ ঘটনায় এ পর্যন্ত ২০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ডুবুরি দল ও স্থানীয়রা উদ্ধার তৎপরতা চালাচ্ছেন। আরও মরদেহ উদ্ধার হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

মরদেহের মধ্যে ১০ জন নারী ও সাতজন শিশুকে শনাক্ত করা গেছে বলে জানিয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক হায়াত-উদ-দৌলা খাঁন।