রাজধানীর চন্দ্রিমা উদ্যানে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের কবর ‘নেই’ বলে মন্তব্য করেছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক।

তিনি বলেন, ‘জিয়ার ডিএনএ টেস্ট করলে অবশ্যই প্রমাণিত হবে এটি জিয়ার কবর নয়।’ 

তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত মূল কুশীলব জিয়ার দল বিএনপি এখনো ষড়যন্ত্র করছে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধ্বংসকারী জিয়ার ভুয়া কবর নিয়ে বিএনপি অপরাজনীতি করার চেষ্টা করছে। দেশের জনগণ বিএনপির প্রতারণা বুঝে গেছে।’

মঙ্গলবার সকালে জাতীয় জাদুঘরের সামনে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের এক অনুষ্ঠানে এসে তিনি এই মন্তব্য করেন।

আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করলেও তাঁর আদর্শ হত্যা করা সম্ভব হয়নি। বঙ্গবন্ধু শুধু বাংলাদেশের নেতা ছিলেন না। তিনি বিশ্ব মানবতার নেতা ছিলেন। তিনি ছিলেন বিশ্বের দরিদ্র মানুষের মুক্তির দূত। ’

বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নে  অতীতের ন্যায় সামনের দিনগুলোতে তরুণ প্রজন্মকে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান মন্ত্রী। 

মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মো. আল মামুনে সঞ্চালনায় সভায় প্রধান বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক, মঞ্চের উপদেষ্টা ও সাবেক যুবলীগ নেতা আরিফুর রহমান সোহেল, ভাস্কর শিল্পী রাশা। 

এতে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ইতিহাসবিদ অধ্যাপক সৈয়দ আনোয়ার হোসেন এবং ঢাবির দর্শন বিভাগের অধ্যাপক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু জাফর মোহাম্মদ সালেহ।

আলোচনা সভার শুরুতে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের পাশাপাশি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ ১৫ আগস্টের সকল শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক বলেন, ‘পাকিস্তানের গুপ্তচর জিয়া কখনও মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন না। পাকিস্তানের আইএসআইয়ের এজেন্ট হিসেবে জিয়া কাজ করেছিল। স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তি জিয়ার দোসরদের সকল ষড়যন্ত্র রুখে দিতে হবে।’

সৈয়দ আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘একাত্তরের পরাজিত অপশক্তি দোসররা পনেরো আগস্টের কালরাত্রিতে ২৬ জনকে গুলি করে নির্মমভাবে হত্যা করেছিল। এটি ইতিহাসের নৃশংসতম হত্যাকাণ্ড। ছোট্ট শিশু শেখ রাসেলও হায়েনাদের হাত থেকে রক্ষা পায়নি। বঙ্গবন্ধুর আজীবনের সহযোদ্ধা ছিলেন বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব। বঙ্গবন্ধু যখন জেলে ছিলেন তখন বঙ্গমাতা দলের জন্য নিজের গহনা পর্যন্ত বিক্রি করেছিলেন। আমাদের দাবি বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডে জড়িত দেশি ও বিদেশি ষড়যন্ত্রকারীদের মুখোশ উন্মোচন করার জন্য একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন তদন্ত কমিশন গঠন করতে হবে। তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদন শ্বেতপত্র আকারে প্রকাশ করতে হবে। বঙ্গবন্ধু কন্যার বিরুদ্ধে এখনও ষড়যন্ত্র চলমান। বিষধর সাপরা এখনও সক্রিয়। এদেরকে চিহ্নিত করতে হবে।’