ঢাকা বুধবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

টিকে রইল একমাত্র ট্রেন

টিকে রইল একমাত্র ট্রেন

.

গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৩ ডিসেম্বর ২০২৩ | ২২:২২

দক্ষিণাঞ্চলের প্রবেশদ্বার হিসেবে খ্যাত গোয়ালন্দ ঘাট রেলস্টেশনের আগের সেই জৌলুস নেই। 
একে একে এই স্টেশনে আসা বন্ধ হয়ে গেছে বিভিন্ন ট্রেনের।  সবশেষ নকশি কাঁথা মেইল 
ট্রেনের চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এখন শুধু একটি ট্রেন ঐতিহ্যবাহী এই রেলস্টেশনে আসা-যাওয়া করবে। এ যেন হারাধনের ছেলেদের একে একে হারিয়ে যাওয়া গল্প। 
রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দে রেলওয়ের দুটি স্টেশন। একটি গোয়ালন্দ বাজার, অপরটি গোয়ালন্দ ঘাট (দৌলতদিয়া)। জনবল সংকটে ঐতিহ্যবাহী গোয়ালন্দ বাজার রেলস্টেশনটি গত ছয় বছর ধরে বন্ধ রয়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, গোয়ালন্দ বাজার রেলস্টেশনের মতো পরিণতি বরণ করতে চলেছে গোয়ালন্দ ঘাট রেলস্টেশনটিও। 
সংশ্লিষ্ট রেলওয়ে কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এক সময় বেশ কয়েকটি ট্রেন গোয়ালন্দ ঘাট রেলস্টেশন রুটে চলাচল করত। প্রতিদিন এই স্টেশন থেকে ট্রেনে দেশের বিভিন্ন রুটে যাতায়াত করতেন হাজারো মানুষ। মধুমতি এক্সপ্রেস নামের একটি আন্তঃনগর ট্রেন রাজশাহী-গোয়ালন্দ ঘাট রুটে নিয়মিত চলাচল করত। পদ্মা সেতু উদ্বোধনের প্রাক্কালে মধুমতি এক্সপ্রেস ট্রেনটি গোয়ালন্দ ঘাট স্টেশন থেকে প্রত্যাহার করে ফরিদপুরের ভাঙ্গায় স্থানান্তর করা হয়। এর আগে খুলনা-গোয়ালন্দ ঘাট রুট থেকে তিতুমীর এক্সপ্রেস নামের অপর একটি আন্তঃনগর ট্রেন প্রত্যাহার করে রাজশাহী-চিলাহাটি রুটে স্থানান্তর করা হয়। অন্যদিকে গোয়ালন্দ ঘাট-পার্বতীপুর রুটে শিলিগুড়ি নামে একটি লোকাল ট্রেন চলাচল করত। রেলওয়ের ৫১৩ নম্বর ওই লোকাল ট্রেনে প্রতিদিন উত্তরাঞ্চল থেকে ব্যবসায়ীরা স্বল্প খরচে বিভিন্ন পণ্য পরিবহন করতেন। ইঞ্জিন ও বগি সংকটের কারণ দেখিয়ে ২০১২ সাল থেকে ওই ট্রেনটি পুরোপুরি বন্ধ ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ। 
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে,  দুটি আন্তঃনগর ট্রেন প্রত্যাহারের পর থেকেই গোয়ালন্দ ঘাটকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা হোটেল-রেস্তোরাঁ, বোডিং, দোকানপাটসহ বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের দুর্দিন শুরু হয়। তবে নকশিকাঁথা মেইল ট্রেন ও একটি লোকাল ট্রেন এই স্টেশনে আসা-যাওয়া করায় কোনোক্রমে ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে সক্ষম হয়েছিলেন খুদে ব্যবসায়ীরা। কিন্তু গত ১ ডিসেম্বর থেকে নকশিকাঁথা মেইল ট্রেনটি গোয়ালন্দ ঘাট স্টেশনের পরিবর্তে পদ্মা সেতু হয়ে ঢাকার কমলাপুর স্টেশনে চলাচল শুরু করেছে। এই ট্রেনটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গোয়ালন্দ ঘাটের শত শত ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী বেকার হয়ে পড়েছেন। 
হোটেল ব্যবসায়ী হাবিবুর রহমান (৭০) জানান, তিনি ৪০ বছর ধরে গোয়ালন্দ ঘাট রেলস্টেশনে হোটেল ব্যবসা করে আসছেন। একটা সময় খুব জাঁকজমক ব্যবসা ছিল। এখন ষ্টেশনে আগের তুলনায় লোক সমাগম নেই বললেই চলে। তারপরও দুটি ট্রেনের যাত্রীদের আশায় হোটেল চালু রেখেছিলেন। অন্যান্য ট্রেনের মতো মেইল ট্রেনটিও (নকশিকাঁথা) বন্ধ গেল। এখন হোটেল বন্ধ করে বেকার হয়ে বাড়িতে বসে থাকা ছাড়া উপায় নেই। 
গোয়ালন্দ ঘাট স্টেশনমাস্টার আব্দুল জলিল বলেন, এই স্টেশনে এখন থেকে শুধু একটি শাটল (লোকাল) ট্রেন চলাচল করবে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক (পশ্চিম) অসীম কুমার তালুকদার বলেন, উন্নয়নের ফলে কালের বিবর্তনে অনেক সময় ঐতিহ্যবাহী গুরুত্বপূর্ণ বিষয় গুরুত্বহীন হয়ে পড়ে। স্বপ্নের পদ্মা সেতুতে রেল চালু হওয়ার ফলে গোয়ালন্দ ঘাটের পরিবর্তে পদ্মা সেতু হয়ে ট্রেন ঢাকায় যাচ্ছে। এতে যাত্রীদেরও সময় এবং ভোগান্তি কমে গেছে। 

আরও পড়ুন

×