ঢাকা মঙ্গলবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

দুর্ভোগে পাঁচ গ্রামের মানুষ

দুর্ভোগে পাঁচ গ্রামের মানুষ

ইন্দুরকানীর সাঈদখালী খালে সেতু নির্মাণ এলাকায় দেওয়া বাঁধ সমকাল

ইন্দুরকানী (পিরোজপুর) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৩ ডিসেম্বর ২০২৩ | ২২:৩৪

পিরোজপুরের ইন্দুরকানীতে তিন বছর ধরে একটি জনগুরুত্বপূর্ণ খালে বাঁধ দিয়ে রাখা হয়েছে। 
এতে পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে দুর্ভোগে পড়েছে পাঁচ গ্রামের মানুষ। 
স্থানীয়দের ভাষ্য, খালে বাঁধ থাকায় একদিকে পানি চলাচল না করার ফলে ভরাট হয়ে 
গেছে। অন্যদিকে পানির তোড়ে চার কিলোমিটারজুড়ে রাস্তাঘাট ও বাগানবাড়ি ভেঙে যাচ্ছে। তিন বছর ধরে এ অবস্থা চললেও প্রতিকার নেই। এখন বাঁধটি ইন্দুরকানী, কালাইয়া, ঢেপসাবুনিয়া, সাউদখালী ও ভবানীপুর গ্রামের বাসিন্দাদের গলার ফাঁস হয়ে দাঁড়িয়েছে। 

খালটি প্রায় সাত কিলোমিটার দীর্ঘ। উত্তর দিকে উত্তর ইন্দুরকানী  গ্রামের বলেশ্বর নদী এবং দক্ষিণ দিকে কালাইয়া ও সাউদখালী গ্রামের মধ্য দিয়ে কঁচা নদীতে পতিত হয়েছে। ২০১৯ সালে খালের দক্ষিণ প্রান্তের কঁচা নদী থেকে এক কিলোমিটার দূরে একটি সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেয় এলজিইডি। এ কারণে খালে বাঁধ দেওয়া হয়। এতে দক্ষিণ দিকে পানি চলাচলসহ যাতায়াত বন্ধ হয়ে যায়। সীমাহীন দুর্ভোগে পড়েন ওই এলাকার বাসিন্দারা। 
খালে বাঁধ থাকায় অন্য শাখা মাঝির খাল, কালাইয়ার খালসহ তিনটি খালের পানি উত্তর ইন্দুরকানী খাল দিয়ে বলেশ্বর নদীতে নামছে। এতে খালের দু’পাশসহ রাস্তা ও বাগানবাড়ি খালে ভেঙ্গে পড়ছে। আট থেকে দশ ফুট গভীর হয়ে গেছে। বাঁধ অপসারণ করা হলে দু’দিক থেকে পানি নামবে। ভাঙনের কবল থেকে রক্ষা পেত বাসিন্দারা। 
উপজেলার দক্ষিণ ইন্দুরকানী গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, খালে বিশাল আকারের বাঁধ দিয়ে রেখা হয়েছে। ওই স্থানে সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হলেও এক বছর ধরে কাজ বন্ধ রয়েছে। বাঁধের দক্ষিণ দিক ভরাট হয়ে গেছে। কোনো পানি নেই। যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। পানির অভাবে  কৃষকদের ফসল উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে।

দক্ষিণ ইন্দুরকানী গ্রামের কৃষক মোতালেব হাওলাদার বলেন, বাঁধ থাকায় আমরা শুকনো মৌসুমে পানি পাই না, আবার বর্ষা মৌসুমে পানি নামতে না পারায় ডুবে থাকতে হয়। তাই তিন বছর ধরে    ফসলের  ফলন ভালো হচ্ছে না।
খালের উত্তর প্রান্তের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আবুল বাশার  জানান, খালের দক্ষিণ দিকে বাঁধ থাকায় তিনটি খালের পানি এক দিক থেকে নামায় চার কিলোমিটার ধরে রাস্তা খালেই বিলীন হয়ে যাচ্ছে। তাই দ্রুত খালের বাঁধ কাটাসহ উত্তর দিকে স্লুইসগেট দেওয়া প্রয়োজন।
উপজেলা এলজিইডির উপপ্রকৌশলী রবীন্দ্রনাথ হালদার বলেন, ওই খালের দক্ষিণ দিকের সেতুর কাজ বন্ধ রয়েছে। জনসাধারণের সুবিধার্থে বাঁধ কেটে দেওয়া প্রয়োজন, যাতে পানি ওঠানামা করতে পারে। যখন কাজ শুরু হবে তখন বাঁধ দেওয়া যেতে পারে। 
 

আরও পড়ুন

×