ঢাকা সোমবার, ০৪ মার্চ ২০২৪

অংশীদারদের দ্বন্দ্ব সেতুর কাজ বন্ধ

অংশীদারদের দ্বন্দ্ব সেতুর কাজ বন্ধ

পাইলিং আর ঢালাইয়ে থমকে আছে চুনারুঘাটের রাজার বাজার–চানপুর সড়কে সেতুর কাজ সমকাল

চুনারুঘাট (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৩ ডিসেম্বর ২০২৩ | ২২:৩৫

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়ী অংশীদারদের মধ্যে চলমান দ্বন্ধের কারণে একবছর ধরে ঝুলে আছে চুনারুঘাট উপজেলার রাজার বাজার–চানপুর সড়কের সেতুর কাজ।
জানা গেছে, চলমান জটিলতার কারণে রাজার বাজার–চানপুর সড়কের কালিশিড়ি গ্রামে ২৫ মিটার দীর্ঘ ওই ব্রিজের নির্মাণকাজ গত এক বছরেও শেষ করতে পারেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এতে করে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন উপজেলার ৭টি গ্রামের প্রায় ৩০ হাজার বাসিন্দা। 
এলজিইডি অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার আহম্মদাবাদ ইউনিয়নের রাজার বাজার টু চানপুর সড়কের কালিশিড়ি খালের ওপর ব্রিজটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। পরে সেখানে ২৫ মিটার দৈর্ঘ্যের একটি পিএসসি গার্ডার ব্রিজের নির্মাণকাজের উদ্যোগ নেয় এলজিইডি। দুই কোটি ৫ হাজার টাকা চুক্তিমূল্যে সেতু নির্মাণের দায়িত্ব পায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার হাসান এন্টারপ্রাইজ নামক একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ২০২২ সালের মে মাসে সেতু নির্মাণের কার্যাদেশ দেওয়া হয়। গত জুনে সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। 
জানা গেছে, নির্মাণকাজ শুরুর পাঁচ মাসের মাথায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অংশীদারদের মধ্যে দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়। এরপর থেকেই ব্রিজের নির্মাণকাজটি বন্ধ রাখা হয়েছে। সেতুর দুই প্রান্তে ভায়াডাক্ট অংশে কংক্রিটের ঢালাই দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সেতুর পাইলিং করে রাখা হয়েছে। সেতুর নির্মাণকাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় রডসহ বিভিন্ন নির্মাণসামগ্রী পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, কালিশিরি গ্রামে কালিশিরি খালের ওপর নির্মীয়মাণ সেতুর দুই প্রান্তে কিছু অংশের ঢালাই করে পাইলিং করে রাখা হয়েছে। সেতুর পাশ দিয়ে যানবাহন ও পথচারীদের চলাচলের জন্য কাঠের সেতু তৈরি করা হয়েছে। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ ও যানবাহন কাঠের সেতুতে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। 
এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সেতুটির কাজ শেষ না হওয়ায় কালিশিড়ি, হারাজুরা, ঘনস্যামপুর, আমু, চন্ডি, চানপুর, 
জোয়াল ভাঙা গ্রামের বাসিন্দারা ভোগান্তির 
শিকার হচ্ছেন। বর্তমানে এসব গ্রামের বাসিন্দাদের মালপত্র পরিবহনে ২৫ কিলোমিটার ঘুরে যাতায়াত করতে হচ্ছে। 
কালিশিড়ি গ্রামের বাসিন্দা উপজেলা কৃষক লীগের সভাপতি মুজিবুর রহমান বলেন, ব্রিজের দুই পাশেই পাকা সড়ক। শুধু ব্রিজের কারণে যানবাহনে পণ্য পরিবহন করা যাচ্ছে না। এতে এলাকার কৃষক ও ব্যবসায়ীরা অনেক সমস্যার মধ্যে পড়েছেন। দ্রুত সেতুর অবশিষ্ট কাজ শেষ করার দাবি জানান তিনি। 
একই এলাকার বাসিন্দা নোমান বলেন, ব্রিজের পাশে তৈরি করা কাঠের সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এতে এলাকার শিক্ষার্থীদের স্কুল-কলেজে যেতে ভোগান্তি হচ্ছে। এছাড়া কেউ গুরুতর অসুস্থ হলে দ্রুত তাকে হাসপাতালে নেওয়ারও সুযোগ নেই।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুস চাত্তার মোল্লা বলেন, ব্রিজটি দীর্ঘদিন ধরে ফেলে রাখায় ইউনিয়ন পরিষদে যাতায়াতকারী বিভিন্ন সেবাপ্রার্থীকে দুর্ভোগ পোহাতে হয়। বিশেষ করে বয়স্ক মানুষের কষ্টের সীমা থাকে না। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সেতুটির কাজ দ্রুত শেষ করার অনুরোধ জানান তিনি। 
এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার সুভাষ চক্রবর্তী বলেন, সেতুর কাজটি শুরু হলে তাদের ব্যবসায়ী অংশীদারদের মধ্যে একটু ঝামেলা হয়েছিল। যেটি এখন সমাধান হয়েছে। শিগগিরই আবার কাজ শুরু হবে। 
এ বিষয়ে চুনারুঘাট উপজেলা প্রকৌশলী দীপক কুমার দাস বলেন, ঠিকাদারকে দ্রুত কাজটি শেষ করার জন্য বলা হয়েছে। দু’একদিনের মধ্যে তারা কাজ শুরু করবে বলে জানিয়েছে। অন্যথায় নতুন ঠিকাদার নিয়োগের ব্যবস্থা করা হবে।

আরও পড়ুন

×