আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে ‘ধ্বংস’ করার অভিযোগ এনে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আওয়ামী লীগের ইতিহাসের এদেশের আত্মাকে ‘বিক্রি করার ইতিহাস।’

বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে বিএনপির ৪৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আওয়ামী লীগের ইতিহাসের এদেশের আত্মাকে বিক্রি করবার ইতিহাস, আওয়ামী লীগের ইতিহাস এদেশের মানুষের আকাংখা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে ধবংস করার ইতিহাস।’

নেতাকর্মীদের আন্দোলনের প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বিএনপির নেতা হিসেবে, কর্মী হিসেবে আমাদের দায়িত্ব দেশের সমস্ত মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করতে হবে। সমস্ত গণতান্ত্রিক শক্তিগুলোকে ঐক্যবদ্ধ করে আমাদেরকে অবশ্যই এই যুদ্ধে জয়লাভ করতে হবে এবং এই শেখ হাসিনার সরকারকে পরাজিত করে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে, আমাদের নেতা তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনতে হবে।’

পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত ও দোয়া অনুষ্ঠানের পর জাতীয় সঙ্গীত ও দলীয় সঙ্গীত পরিবেশনার মধ্য দিয়ে এই আলোচনা সভা শুরু হয়। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে মিলনায়তন ও আশপাশে জাতীয় ও দলীয় পতাকা, জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের প্রতিকৃতি দিয়ে বর্ণিলভাবে সাজানো হয়। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি সংযুক্ত হন। 

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সার্বক্ষিণকভাবে বিএনপির বিরুদ্ধে বিষেদাগার করে, জিয়াউর রহমানকে, খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানকে খাটো করার চেষ্টা করে। কিন্তু আওয়ামী লীগ যদি একবার নিজেদেরকে জিজ্ঞাসা করার চেষ্টা করে যে, এদেশের জন্য তাদের অবদান কি? তাদের অবদান হচ্ছে পাকিস্তানিদের কাছে আত্মসমর্পন, তাদের অবস্থান ভারতে পালিয়ে গিয়ে নেতা সাজা, তাদের অবদান গণতন্ত্রকে করে ধ্বংস করে দিয়ে একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা।’

দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে ‘মিথ্যা মামলায়’ সাজা দিয়ে সরকার আটক করে রেখেছে অভিযোগ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘জিয়াউর রহমানের মৃত্যুবরণের পরে সেদিনও অনেক মনে করেছিল যে, বিএনপি বোধ হয় শেষ, বিএনপি ধ্বংস, আর বিএনপি জেগে উঠবে না। কিন্তু ফিনিক্স পাখির মতো বিএনপি জেগে উঠেছে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে। ৯ বছর তিনি পথে-প্রান্তরে চারণ কবির মতো গান গেয়ে গণতন্ত্রের গান গেয়েছেন দেশকে মুক্তি করেছেন এবং আজকেও তার সমস্ত সুখ-আয়েস ত্যাগ করে, আত্মীয়-স্বজন ত্যাগ করে গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠার জন্য কারান্তরীণ হয়ে আছেন।’

স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য একটি- এই সরকারের হাত থেকে দেশকে রক্ষা করা, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করা, খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে ভবিষ্যতে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করা এবং তারেক রহমানকে দেশে এসে রাজনীতি করার ক্ষেত্র প্রস্তুত করে দেওয়া।’

রাজধানীর চন্দ্রিমা উদ্যানে জিয়াউর রহমানের কবর নিয়ে আওয়ামী লীগ নেতাদের সাম্প্রতিক বক্তব্যের জবাবে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘আওয়ামী লীগ নিজেদের সকল ব্যর্থতাকে চাপা দেয়ার জন্য হৃদয় স্পর্শ করা একটা ইস্যুকে তারা সামনে এনে আমাদেরকে ব্যস্ত রাখতে চায়।’

মুক্তিযুদ্ধে জেড ফোর্সের সদস্য বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম বলেন, ‘লে. কর্নেল জয়নুল আবেদীনের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধায়নে জিয়াউর রহমানের লাশকে কবরে (চন্দ্রিমা উদ্যান) নামানো হয়েছে। জয়নুল নিজেও কবরে নেমেছিলেন। অথচ তারা বলে যে, কবরে লাশ নেই। ’

মির্জা ফখরুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও প্রচার সম্পাদক শহিদউদ্দিন চৌধুরী ও সহ-প্রচার সম্পাদক আমিরুল ইসলাম আলীমের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান ও আবদুস সালাম, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, যুবদলের সাইফুল আলম নিরব, সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, স্বেচ্ছাসেবক দলের আবদুল কাদির ভুঁইয়া জুয়েল, মহিলা দলের আফরোজা আব্বাস, মুক্তিযোদ্ধা দলের সাদেক আহমেদ খান, ছাত্র দলের ফজলুর রহমান খোকন প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

অনুষ্ঠানে বিএনপির শওকত মাহমুদ, খায়রুল কবির খোকন, সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, শিরিন সুলতানা, এবিএম মোশাররফ হোসেন, আবদুস সালাম আজাদ, শহীদুল ইসলাম বাবুল, আকরামুল হাসান, নিপুণ রায় চৌধুরী, অবসরপ্রাপ্ত মেজর আক্তারুজ্জামানসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।