নোয়াখালীর মাইজদী শহরে জেলা আওয়ামী লীগের তিন গ্রুপের সমাবেশকে কেন্দ্র করে দলীয় কর্মীদের অবৈধ অস্ত্র প্রদর্শনের ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে অস্ত্র প্রদর্শনকারী ছাত্রলীগ নেতাসহ চারজনকে ৫৪ ধারায় সন্দেহজনকভাবে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তাররা হলেন, নোয়াখালী সদর উপজেলার কাদির হানিফ গ্রামের মৃত মিজানুর রহমানের ছেলে ছাত্রলীগ নেতা মো. রাফেজ (২৫), বেগমগঞ্জের চৌমুহনী পৌরসভার পৌর হাজীপুর এলাকার মৃত শাহজাহানের ছেলে মো. আবুল হায়াত রায়হান ওরফে খালাশী রায়হান (২৬), সদর উপজেলার পশ্চিম শুল্যকিয়া গ্রামের আব্দুল খালেকের ছেলে মো. ইউনুছ (৪০), উপজেলার কাশিপুর গ্রামের মৃত নুর মোহাম্মদের ছেলে নুরুল আমিন (৩৯)।

তাদের নোয়াখালী চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তাদের নিয়মিত মামলায় শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানো হয়েছে। সুধারাম থানার পরিদর্শক (তদন্ত) এমদাদুল হক এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের কমিটি ঘোষণাকে কেন্দ্র করে গত ৫ সেপ্টেম্বর বিকেলে আওয়ামী লীগের তিনটি গ্রুপ ৬ সেপ্টেম্বর একই স্থানে একই সময়ে কর্মসূচি ঘোষণা দেয়। সেই কর্মসূচি সফল করার জন্য ৫ সেপ্টেম্বর বিকেলে এমপি একরামুল করিম চৌধুরী গ্রুপ, মেয়র শহিদ উল্যা খান সোহেল গ্রুপ এবং অ্যাডভোকেট শিহাব উদ্দিন শাহিন গ্রুপের মধ্যে ত্রিমুখী ধাওয়া, পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ চলে। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শটগান দিয়ে গুলি করে সংঘর্ষকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয় পুলিশ। এ সময় অ্যাডভোকেট শিহাব উদ্দিন শাহিনের কর্মী মো. রাফেজ প্রকাশ্যে পিস্তল উঁচিয়ে মহড়া দেন, যার ভিডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়।

পরে এ ঘটনায় সুধারাম থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) কামাল উদ্দিন বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন। একইসঙ্গে তাৎক্ষণিকভাবে ওই ভিডিও ক্লিপটি সংগ্রহ করেন। সেই ভিডিও ক্লিপ পর্যালোচনা করে অবৈধ অস্ত্র প্রদর্শনকারী ছয় মামলার আসামি রাফেজকে শনাক্ত করা হয়। পরে অভিযান চালিয়ে পুলিশ চারজনকে গ্রেপ্তার করে। ওই মামলায় বৃহস্পতিবার তাদের শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানো হয়েছে। আগামী রোববার তাদের আদালতে হাজির করা হবে।

এ ব্যাপারে সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট শিহাব উদ্দিন শাহীন বলেন, গ্রেপ্তার চারজনের মধ্যে নুরুল আমিন দাদপুর ইউনিয়নের ত্রাস। সে এমপি একরামুল করিম চৌধুরীর অনুসারী। তবে বেগমগঞ্জের আবুল হায়াত রায়হান ওরফে খালাশী রায়হানকে তিনি চিনেন না বলে দাবি করেন। তিনি এও জানান, গ্রেপ্তার মো. রাফেজ জেলা ছাত্রলীগের প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক এবং মো. ইউনুছ সদর উপজেলার কালা দরাপ ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক। তারা নির্দোষ। তাদের ষড়যন্ত্রমূলকভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি তাদের মুক্তি দাবি করেন।

একরামুল করিম চৌধুরীর অনুসারী নোয়াখালী শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল ওয়াদুদ পিন্টু বলেন, পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার চারজনই অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী ও শিহাব উদ্দিন শাহীনের অনুসারী।

সুধারাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাহেদ উদ্দিন বলেন, গ্রেপ্তারদের বিচারিক আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।