রাজধানীতে এক মতবিনিময় সভায় বক্তারা বলেছেন, নির্যাতন ও হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইনটি ভালো। কিন্তু এর প্রয়োগ কম। আইনটি সংস্কার করতে হবে। এ আইনে পুলিশের বিরুদ্ধে অধিকাংশ মামলা হলেও ভয়ে কেউ আদালতে সাক্ষ্য দিতে চান না। ভবিষ্যতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজতে যেন কারও মৃত্যু না হয় সেদিকে রাষ্ট্রকে আরও সজাগ হওয়ার তাগিদ দেন বক্তারা।

পল্লবী থানা হেফাজতে পুলিশি নির্যাতনে ঝুট ব্যবসায়ী ইশতিয়াক হোসেন জনির মৃত্যুর মামলার রায়ের এক বছর পূর্তি উপলক্ষে বৃহস্পতিবার একটি হোটেলে এ মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। 'হেফাজতে নির্যাতন ও দায়বদ্ধতা :প্রতিকার ও প্রতিবন্ধকতা' শীর্ষক এ সভার আয়োজন করে মানবাধিকার সংগঠন বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট)।

ব্লাস্টের মুখ্য আইন উপদেষ্টা আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি নিজামুল হক নাসিমের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য দেন সমকালের উপদেষ্টা সম্পাদক আবু সাঈদ খান, আইনজীবী মশিউর রহমান, নুর খান লিটন, আবু তৈয়ব, এসএম রেজাউল করিম, বদিউজ্জামান তপাদার, পুলিশি নির্যাতনে নিহত জনির ভাই ইমতিয়াজ হোসেন রকি প্রমুখ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন আইনজীবী তাজুল ইসলাম।

বিচারপতি নিজামুল হক বলেন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজতে মৃত্যু অত্যন্ত ভয়ংকর ও নির্মম। কোনো মামলায় পুলিশ আসামি হলে সাক্ষীরা আদালতে সাক্ষ্য দিতে ভয় পান। এই ভয়ের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।

আবু সাঈদ খান বলেন, রাষ্ট্রকে মানবাধিকার রক্ষায় কাজ করতে হবে। প্রত্যেক নাগরিককে জান-মালের নিরাপত্তা দিতে হবে। কিন্তু রাষ্ট্রযন্ত্র মানবাধিকার লঙ্ঘনে মূল ভূমিকা পালন করছে। আমরা সবাই একটা ভয়ের সংস্কৃতির মধ্যে আছি। এটা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। যারা ভিকটিম তাদের পক্ষে আদালতে মানবাধিকার সংগঠনগুলো কাজ করছে। কিন্তু যারা এসব ঘটনার নায়ক তাদের কী দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হচ্ছে? ব্রিটিশ আমলে প্রণীত অনেক আইনের সংস্কারেরও দাবি জানান তিনি।

ব্লাস্ট্রের আইনজীবী নুর খান লিটন বলেন, নির্যাতন ও হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইনে করা মামলায় অনেক বাধা-বিপত্তি উপেক্ষা করে গত বছরের এই দিনে জনি হত্যার রায়টি এসেছে। এ ধরনের মামলাগুলো প্রতিনিয়ত নিবিড়ভাবে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পর্যবেক্ষণ করতে হবে। এ ধরনের ঘটনায় ভিকটিমের পক্ষে আইনি লড়াই করতে হলে অবশ্যই কোনো প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে টিম ওয়ার্কের ভিত্তিতে কাজ করতে হবে।

রেজাউল করিম বলেন, হেফাজতে মৃত্যু নিবারণ আইন ২০১৩ সালে প্রণয়ন করা হলেও এর প্রয়োগ কম। এই আইনের অধীনে ২০১৯ সাল পর্যন্ত ঢাকাসহ সারাদেশে ১৯টি মামলা করা হয়েছে।

সংশ্নিষ্টরা জানান, এ আইনে গত সাত বছরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজতে নিহতের ঘটনার মাত্র একটির বিচার হয়েছে। গত বছরের সেপ্টেম্বরে জনির মৃত্যুর ঘটনায় পল্লবী থানার তৎকালীন এসআই জাহিদুর রহমানসহ তিন পুলিশ সদস্যকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং দুই পুলিশ সোর্সকে সাত বছরের কারাদণ্ড দেন ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত। নিহতের পরিবারকে ক্ষতিপূরণের পাশাপাশি সব আসামিকে অর্থদণ্ড দেওয়া হয় রায়ে।