রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশনের আশকোনা লেভেলক্রসিং পোস্ট এখন হকার ও ভাসমান লোকদের নিয়ন্ত্রণে। লেভেলক্রসিংয়ের ৪টি পোস্টে ১২ জন কর্মীর বিভিন্ন শিফটে দায়িত্ব পালনের কথা। কিন্তু এটা শুধু কাগজ-কলমেই আছে। তাদের পরিবর্তে দায়িত্ব পালন করেন হকাররা। এ কারণে চরম ঝুঁকি নিয়ে এ লেভেলক্রসিং দিয়ে চলাচল করেন হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগামী যাত্রী, বিমানের কর্মী, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ। যে কোনো সময় এখানে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, এই লেভেলক্রসিংয়ে দায়িত্ব পালন করছেন কয়েকজন হকার। এই এলাকায় আছে হকারের শতাধিক দোকান, পাশাপাশি ব্যাটারিচালিত শত শত ইজিবাইক। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত স্টেশন ও তার আশপাশের এলাকায় হকার ও ইজিবাইকের ভিড় লেগেই থাকে। এ ছাড়া এ এলাকায় গড়ে ওঠা ছিনতাই ও পকেটমার চক্রের শিকার হন বিভিন্ন আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রীরা। এ এলাকায় সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত কেনাবেচা হয় গাঁজা, ফেনসিডিল ও বাংলা মদ। চলে মদের আসর। ড্যান্ডি আসক্ত, ভাসমান যৌনকর্মী, হকার ও ভিক্ষুকের উৎপাতেও অতিষ্ঠ বিভিন্ন ট্রেনের যাত্রী।

চট্টগ্রাম, সিলেট ও রংপুর থেকে আসা আন্তঃনগর ট্রেনের কয়েকজন যাত্রী জানান, বিমানবন্দর স্টেশনে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কর্মীরা শুধু যাত্রীদের টিকিট চেক করা নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। স্টেশন এলাকায় হকার ও নানা অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে রহস্যজনক কারণে কোনো পদক্ষেপ নেয় না তারা।

বিমানবন্দর রেলওয়ের স্টেশন মাস্টার মোহাম্মদ হালিমুজ্জামান সমকালকে বলেন, আশকোনা লেভেলক্রসিংয়ের মোট ১২ জন রেলওয়ের কর্মী রয়েছেন। পালাক্রমে তাদের সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালনের কথা। তাদের পরিবর্তে হকাররা দায়িত্ব পালন করলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরও জানান, বিমানবন্দর স্টেশন এলাকায় ছিনতাইকারী, পকেটমার, মাদকসেবী ও হকারদের প্রতিরোধ করার দায়িত্ব জিআরপি থানার নিয়ন্ত্রণাধীন বিমানবন্দর পুলিশ ফাঁড়ির।

বিমানবন্দর জিআরপি পুলিশের এসআই আলী আকবর বলেন, বিদ্যমান সমস্যা সমাধান করার চেষ্টা চলছে। স্টেশন এলাকায় হকার, মাদকসেবী, পকেটমার ও ছিনতাইকারীসহ নানা অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে জিআরপি পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।