জন্মের দেড় বছর পরেই চুলার আগুনে পুড়ে যায় দুটি হাত ও মুখের কিছু অংশ। হাতের আঙুল না থাকায় ও মুখের অংশ পুড়ে যাওয়ায় চোখের আইরিস স্ক্যানে জটিলতা হচ্ছিল। পাশাপাশি হারিয়ে গিয়েছিল টিকা কার্ড। এসব জটিলতার কারণে ৩০ বছর বয়সী প্রতিবন্ধী শরিফুল ইসলাম মারুফ জাতীয় পরিচয়পত্র পাচ্ছিলেন না। আর জাতীয় পরিচয়পত্র না থাকায় সব ধরনের সরকারি সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত তিনি।

তবে অবশেষে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর তিনি ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হতে পেরেছেন। একই সঙ্গে পৌরসভা থেকেও পেয়েছেন জন্মনিবন্ধন কার্ড। এতে করে প্রতিবন্ধী হিসেবে সরকারি সহযোগিতার দ্বার উন্মোচন হলো তার।

মারুফ ঘোড়াঘাট উপজেলার নয়াপাড়া গ্রামের আসাদ আলীর ছেলে। কয়েক বছর আগেই তার বাবা মারা গেছেন। মা সুফিয়া বেগমও ব্রেন স্ট্রোক করে শয্যাশায়ী। তাই মারুফ জানেন না তার টিকা কার্ড কোথায়। বয়স প্রমাণের জন্য তার টিকা কার্ড বা শিক্ষাগত যোগ্যতার কোনো কাগজপত্র নেই। পাশাপাশি পুড়ে যাওয়া হাতের আঙুল না থাকায় এবং মুখের অনেকাংশ পুড়ে যাওয়ায় চোখের আইরিস স্ক্যানে জটিলতায় ভোটার তালিকাতেও ছিল না তার কোনো অস্তিত্ব। সম্প্রতি এ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর মারুফকে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে কাজ শুরু করে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা। প্রতিবন্ধীদের জন্য বিশেষ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তাকে ভোটার তালিকায় যুক্ত করা হয়। গত রোববার ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুুক্তির অনলাইন কপি তার হাতে তুলে দেন ঘোড়াঘাট পৌরসভার মেয়র আব্দুস সাত্তার মিলন।

দীর্ঘ কয়েক বছর চেষ্টার পর ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হতে পেরে খুশি মারুফ। তিনি বলেন, কতবার বিভিন্ন দপ্তর এবং মানুষের দুয়ারে ঘুরেছি জন্মনিবন্ধন ও ভোটার আইডি কার্ডের জন্য। কিন্তু কাজ হয়নি। এখন কার্ড পেলেও বিশ্বাস হচ্ছে না। আশা করছি, এখন প্রতিবন্ধীদের জন্য সরকারের দেওয়া অনুদানও পাব।

ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা শাহজাহান মানিক বলেন, আমি যোগদান করার পরেই মারুফসহ বেশ কয়েকজন প্রতিবন্ধীর বিষয়ে জানতে পারি, যারা ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হতে পারেননি। পরে তাদের ভোটার তালিকায় যুক্ত করার আবেদন কমিশনে পাঠাই।