চট্টগ্রামে কর্ণফুলী নদীর বাংলাবাজার ঘাটে অতিরিক্ত মাশুল আদায়ের অভিযোগে দু'দিনের ধর্মঘটের পর মঙ্গলবার দিনভর অনশন কর্মসূচি পালন করেছেন সাম্পান মাঝিরা। এর আগে রোববার থেকে যাত্রী পারাপার বন্ধ করে দিয়ে ধর্মঘট শুরু করায় দুর্ভোগে পড়েছেন কয়েক হাজার শ্রমিক, কর্ণফুলী থানা এলাকার বাসিন্দা ও বিভিন্ন স্কুুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা। 

এদিকে বুধবার সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন সাম্পান মাঝিরা। সাম্পান মাঝিদের অভিযোগ, এই নৌপথ দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রী পারাপার হন। সিটি করপোরেশন ঘাটটি ইজারা না দিয়ে স্থানীয় প্রভাবশালীদের হাতে তুলে দিয়েছে। তারা লোকজনের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায় করছে। এ বিষয়ে মেয়রকে অভিযোগ দেওয়ার পরও কোনো সুরাহা হয়নি।

কর্ণফুলী নদীর বাংলাবাজার সাম্পান কল্যাণ সমিতির উপদেষ্টা সাংবাদিক আলীউর রহমান জানান, পাটনিজীবী নীতিমালা অনুযায়ী, ঘাটগুলো ইজারা নেন নদীর সাম্পান মাঝিরা। কিন্তু ঘাটটি সিটি করপোরেশন কয়েক দফা দরপত্র আহ্বান করেও ইজারা দেয়নি। নিয়ম অনুযায়ী, ঘাট ইজারা না হলে সিটি করপোরেশনের একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা যাত্রীদের কাছ থেকে ঘাটের খাস বা মাশুল আদায় করবেন। কিন্তু এখানে স্থানীয় হারুন দোভাষ নামে একজনকে সিটি করপোরেশন দায়িত্ব দিয়েছে। তারা এক-দুই টাকার স্থলে যাত্রীপ্রতি পাঁচ টাকা করে খাস আদায় করছেন। এর কিছু তারা সিটি করপোরেশনকে দিলেও সবটা নিজেরা লুটপাট করছেন।

ইছানগর বাংলাবাজার ঘাট সাম্পান মালিক সমিতির সভাপতি মো. লোকমান বলেন, ঘাটটি সিটি করপোরেশন ইজারা না দিয়ে বাড়তি খাস আদায় করছে। এটি বন্ধ করার জন্য সিটি করপোরেশনকে চিঠি দিয়েছি। এর পরও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি তারা। বুধবার (আজ) সিটি করপোরেশনের সঙ্গে বৈঠক রয়েছে। সেখানে কোনো সমাধান না এলে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

এ প্রসঙ্গে সিটি করপোরেশনের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম সমকালকে বলেন, সমস্যা সমাধানে মাঝিদের সঙ্গে বৈঠক আহ্বান করা হয়েছে। আশা করছি, অচলাবস্থা নিরসন হবে।