টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলায় প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে এক নারীকে ধর্ষণচেষ্টা ও প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ইউপি সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা ওসমান গণির বিরুদ্ধে।

বুধবার ধনবাড়ী প্রেস ক্লাবের সাংবাদিকদের সামনে ওই নারী তার অভিযোগ তুলে ধরেন। এ ঘটনায় তিনি ১ সেপ্টেম্বর টাঙ্গাইল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন।

অভিযুক্ত ইউপি সদস্য ওসমান গণি মুশুদ্দি ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ও স্থানীয় ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক। বর্তমানে সদস্য। তিনি কামারপাড়া গ্রামের মৃত হোসেন আলীর ছেলে।

নারীর বক্তব্য ও মামলা সূত্রে জানা যায়, দরিদ্র ওই নারী প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর পাওয়ার জন্য ওসমানের কাছে ধরনা দেন। দুই বছর আগে তার পেছনে ঘুরে ৫০ হাজার টাকায় ঘর দেওয়ার মৌখিক চুক্তির পর ২৭ হাজার টাকা দেন। তবে দুই বছরে অনেকে পেলেও ওই নারীর ভাগে ঘর জোটেনি। একপর্যায়ে ওসমান তাকে আপত্তিকর প্রস্তাব দিতে থাকেন। বেশ কিছুদিন এমন করতে থাকলে ওই নারী টাকা ফেরত নিতে চেষ্টা চালান। অবশেষে গত ২৭ আগস্ট সকাল ১০টার দিকে ওসমানের বাড়িতে গেলে তাকে ঘরে বসতে দেওয়া হয়। একপর্যায়ে ধর্ষণের চেষ্টা চালান তিনি। নারীর চিৎকারে মেম্বারের স্ত্রী বাইরে থেকে এসে উল্টো চড়াও হন। পরে স্বামী-স্ত্রী মিলে অসহায় নারীর ওপর নির্যাতন চালান। স্থানীয়রা এগিয়ে এসে তাকে রক্ষা করেন।

মামলার পরদিন অভিযোগকারী নারী ধনবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে একটি লিখিত আবেদন করলে তিনি স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানকে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।

ভারপ্রাপ্ত ইউপি চেয়ারম্যান (৭ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য) মোস্তাফিজুর রহমান এমন অভিযোগের কথা শুনেছেন বলে জানান। ইউপি সদস্য ওসমান গণি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তদন্ত করে সত্যতা পেলে শাস্তি মেনে নেব।